Delhi Blast Case: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ১০ জনের বিরুদ্ধে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট ফাইল করল NIA

Delhi Blast Case: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ১০ জনের বিরুদ্ধে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট ফাইল করল NIA

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থ এনআইএ (National Investigation Agency) দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকার গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করল বৃহস্পতিবার৷ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরের এই বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত এবং আহত হয়েছিলেন বহু মানুষ। তদন্তে জানা যায়, এই বিস্ফোরণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভেহিকল-বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (VBIED) ব্যবহার করা হয়েছিল৷

চার্জশিট অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত মৃত ডাক্তার উমের উন নবি-সহ ১০ জনই Ansar Ghazwat-ul-Hind (AGuH)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা Al‑Qaida in the Indian Subcontinent (AQIS)-এর একটি শাখা সংগঠন হিসাবে পরিচিত। প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০১৮ সালের জুন মাসে AQIS-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

দিল্লির Patiala House Court- এর এনআইএ বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয় এদিন৷ চার্জশিটে UAPA Act 1967, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩, Explosive Substances Act 1908, Arms Act 1959 এবং Prevention of Damage to Public Property Act 1984-এর বিভিন্ন ধারা দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৷

উমের উন নবি Al-Falah University-এর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করত৷ অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে আমির রশিদ মির, জাসির বিলাল ওয়ানি, ডা. মুজামিল শাকিল, ডা. আদিল আহমেদ রাথার, ডা. শাহিন সাঈদ, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে, সোয়েব, ডা. বিলাল নাসির মাল্লা এবং ইয়াসির আহমদ দার।

তদন্ত জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং দিল্লি-এনসিআর জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে বলে এনআইএ সূত্রের খবর৷ চার্জশিটে ৫৮৮ জনের সাক্ষ্য, ৩৯৫টিরও বেশি নথি এবং ২০০টির বেশি বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এনআইএর তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন উগ্রপন্থায় প্রভাবিত চিকিৎসক ছিল এবং AQIS/AGuH-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হামলা চালিয়েছিল। ২০২২ সালে শ্রীনগরে একটি গোপন বৈঠকে তারা “AGuH Interim” নামে সংগঠনটি পুনর্গঠন করে।

তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা নতুন সদস্য নিয়োগ, জিহাদি মতাদর্শ প্রচার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত এবং বাণিজ্যিক রাসায়নিক ব্যবহার করে বিস্ফোরক তৈরির কাজ করছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের আইইডি তৈরি ও পরীক্ষাও চালিয়েছিল।

বিস্ফোরণে ব্যবহৃত TATP (Triacetone Triperoxide) বিস্ফোরক গোপনে উপাদান সংগ্রহ করে প্রস্তুত করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নেওয়ার পরে এনআইএ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত অভিযুক্ত উমের উন নবির পরিচয় নিশ্চিত করে।

অপরাধস্থল এবং ফরিদাবাদ ও জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত প্রমাণের ফরেন্সিক পরীক্ষা ও ভয়েস অ্যানালাইসিস করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে AK-47 রাইফেল, ক্রিনকভ রাইফেল এবং দেশি পিস্তলসহ অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। তারা রকেট ও ড্রোনে বসানো আইইডি তৈরির পরীক্ষাও চালিয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য সিকিওরড এলাকায় হামলা করা। MMO Anode, বৈদ্যুতিক সার্কিট ও সুইচসহ বিশেষ ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম তারা অনলাইন ও অফলাইন মারফত সংগ্রহ করেছিল।

তদন্তে জানা যায়, তারা দেশের অন্যান্য অংশেও সন্ত্রাসবাদী হামলার সবিস্তার পরিকল্পনা করছিল, যা সময়মতো ভন্ডুল হয়ে যায় চক্র সামনে আসতেই এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজ এখনও চালাচ্ছে এনআইএ৷

(Feed Source: news18.com)