Srijato Bandyopadhyay: আপাতত মিলল স্বস্তি, আগাম জামিন শ্রীজাতর! কবিকে কী কী শর্ত দিল আদালত?

Srijato Bandyopadhyay: আপাতত মিলল স্বস্তি, আগাম জামিন শ্রীজাতর! কবিকে কী কী শর্ত দিল আদালত?

Poet Srijato Bandyopadhyay Granted Conditional Anticipatory Bail: ২০১৯ সালের বিতর্কিত মামলায় কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন পেলেন বিশিষ্ট কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জামিন মিললেও আদালতের অনুমতি ছাড়া কলকাতা এবং কৃষ্ণনগরের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। একদিকে যখন সংস্কৃতিমহল একে ‘বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, ধর্মীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়েই এই রায়। ঠিক কী কী শর্ত দিল আদালত?

অনুপ দাস: আদালতে স্বস্তি পেলেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আট বছর আগের এক বিতর্কিত কবিতাকে কেন্দ্র করে আইনি মামলায় শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দেন তিনি। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে শর্তসাপেক্ষে কবির জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে জামিন মিললেও আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত কলকাতা এবং কৃষ্ণনগরের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শ্রীজাত তাঁর ফেসবুক পেজে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ওই কবিতার ছত্রে ছত্রে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। এমনকি কবিতার একটি নির্দিষ্ট লাইনে শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করারও অভিযোগ তোলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এই ঘটনার জেরে সেই সময় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়, কবিকে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং ফেসবুক থেকে কবিতাটি সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীকালে, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে এই ইস্যুতে কৃষ্ণনগর আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী রোমিত শীল। আদালতের তরফে কবিকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ কয়েক বছর পর গত ২০ এপ্রিল শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করে আদালত। ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে এই খবর সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য রাজনীতি ও সংস্কৃতিমহলে।

শনিবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মামলাকারীর আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাই তাঁর জামিন মঞ্জুর করা উচিত নয়। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শর্তসাপেক্ষে কবির জামিন মঞ্জুর করে। জামিনের শর্ত হিসেবে ২,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর শহর ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শ্রীজাতর জামিন মিললেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামছে না। রাজ্যের সংস্কৃতিমহলের একাংশের দাবি, “এটি স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।” অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, “বাকস্বাধীনতার নামে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করাকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না, আদালত সঠিক পদক্ষেপই করেছে।” ভোটের মুখে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল উঠলেও কমিশন দ্রুত বিবৃতি দিয়ে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেয়। আপাতত জামিন পেলেও এই হাইপ্রোফাইল আইনি লড়াই আগামীদিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

(Feed Source: zeenews.com)