
CAR-T থেরাপিতে একজন মানুষের রক্ত থেকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ টি-সেল (T cells) বার করে নেওয়া হয়। এরপর জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোকে “জীবন্ত ওষুধে” রূপান্তরিত করে আবার রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
HIV গবেষণায় আশার আলো! রোগপ্রতিরোধী কোষ শক্তিশালী করেই মিলতে পারে সংক্রমণ দমনের পথ! বিজ্ঞানীরা একটি শক্তিশালী ক্যানসার থেরাপিকে পরিবর্তন করে এইচআইভি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। এর জন্য তারা রোগীদের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কোষগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলছেন। মঙ্গলবার গবেষকরা জানান, এই বিশেষভাবে উন্নত কোষের মাত্র এক ডোজ দুইজন রোগীর শরীরে এইচআইভিকে দমন করেছে — একজনের ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত, এবং এই সময় তাঁদের নিয়মিত ওষুধও প্রয়োজন হয়নি।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা Dr. Steven Deeks সতর্ক করে বলেন, CAR-T cell therapy সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা প্রয়োজন।তিনি বলেন, “দুইজন মানুষের শরীরে এত দীর্ঘ সময় ধরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। নিরাপদ ও সহজে প্রয়োগযোগ্য ‘একবারের চিকিৎসায় সমাধান’ খুবই প্রয়োজন, আর আমরা সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল নিয়ে কাজ করছি।”এই গবেষণার তথ্য American Society of Gene and Cell Therapy-এর এক বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। আজকের আধুনিক ওষুধ এইডস সৃষ্টিকারী ভাইরাসটিকে দ্রুত মৃত্যুর কারণ থেকে নিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগে পরিণত করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ ভাইরাসকে শনাক্তের অযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে রাখতে পারে। তবে এর জন্য রোগীদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে ও সময়মতো খেতে হয়।এইচআইভির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ভাইরাসটি শরীরের ভেতরে কিছু গোপন স্থানে লুকিয়ে থাকে। ফলে চিকিৎসা বন্ধ করলেই ভাইরাস দ্রুত আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই এইচআইভির স্থায়ী চিকিৎসা বা নিরাময়ের খোঁজ করছেন। তাঁরা এমন কিছু বিরল জিনগত পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন, যা কিছু মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই এইচআইভি প্রতিরোধী করে তোলে। এছাড়াও, এমন কিছু এইচআইভি রোগীর ঘটনাও গবেষণায় উঠে এসেছে, যাঁরা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট নেওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি রেমিশন বা কার্যত সুস্থ অবস্থায় পৌঁছেছেন। তবে এই পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
CAR-T থেরাপিতে একজন মানুষের রক্ত থেকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ টি-সেল (T cells) বার করে নেওয়া হয়। এরপর জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোকে “জীবন্ত ওষুধে” রূপান্তরিত করে আবার রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতি কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার নিরাময়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে।এইচআইভির ক্ষেত্রে, Caring Cross এমন CAR-T কোষ তৈরি করেছে, যার রয়েছে দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এগুলোকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যাতে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে এইচআইভি-আক্রান্ত কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে। পাশাপাশি, যেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এগুলো তৈরি, সেই এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেও সেগুলোকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
Dr. Steven Deeks-এর প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় বিভিন্ন মাত্রার ডোজ প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা CAR-T কোষ গ্রহণের দিন থেকেই তাঁদের নিয়মিত এইচআইভি ওষুধ বন্ধ করেছিলেন। গবেষণায় কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে প্রথম তিনজন রোগীর ক্ষেত্রে কোনও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি এবং তাঁরা আবার আগের ওষুধে ফিরে যান।এরপর আরও ছয়জন রোগীকে নতুন টি-সেলগুলোর জন্য শরীরে জায়গা তৈরি করতে অল্পমাত্রার কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুইজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্তের অযোগ্য মাত্রায় নেমে যায়। মাঝে মাঝে ভাইরাসের মাত্রা সামান্য বাড়লেও ধারণা করা হয়, তখন CAR-T কোষগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ভাইরাসকে দমন করেছে।
তৃতীয় একজন রোগীর ক্ষেত্রেও সাময়িক ইতিবাচক ফল মিলেছিল, তবে পরে তিনি আবার নিয়মিত এইচআইভি চিকিৎসা শুরু করেন।ডিকস জানান, এই তিনজন রোগীই সংক্রমণের পর খুব দ্রুত এইচআইভির চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যাঁরা দ্রুত চিকিৎসা নেন তাঁদের শরীরে সাধারণত কম পরিমাণে এইচআইভি লুকিয়ে থাকে এবং তাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে ভাল থাকে।
(Feed Source: news18.com)
