Air India Crash: বসা, পিঠ পোড়া, তখনও ক্যাপ্টেনের শক্ত হাতে ধরা বিমানের কন্ট্রোল; মর্গ-দৃশ্যের হাড়হিম বর্ণনা, এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার তদন্তে ১৮০ ডিগ্রি মোড়?

Air India Crash: বসা, পিঠ পোড়া, তখনও ক্যাপ্টেনের শক্ত হাতে ধরা বিমানের কন্ট্রোল; মর্গ-দৃশ্যের হাড়হিম বর্ণনা, এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার তদন্তে ১৮০ ডিগ্রি মোড়?

Air India Crash Pilot was clutching controls: মর্গে নিজের পরিবারের সদস্যদের দেহাবশেষ শনাক্ত করতে গিয়েছিলেন ভোহরা। সেখানে গিয়েই তিনি বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হন… ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের দেহ। বসা, পিঠ পোড়া, কিন্তু সামনের অংশ একেবারে অক্ষত। কালো টাই ও প্যান্ট প্রায় অক্ষত। এমনকি জুতোগুলোও পায়ে, আর…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সেই দৃশ্য তাঁকে তাড়া করে বেড়ায় এখনও। দু-চোখের পাতা এক করতে পারেন না তিনি। ঘুমের মধ্যেও দুঃস্বপ্নে তাড়া করে সেই দৃশ্য। মনে মনে প্রার্থনা করেন, যে জিনিস তিনি দেখেছেন, যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে, তা যেন আর কারও না হয়! ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার পর মর্গের এমনই এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞার বর্ণনা করেছেন রোমিন ভোহরা।

২০২৫-এর ১২ জুন অভিশপ্ত এয়ার ইন্ডিয়া AI-171 বিমানে ছিলেন তাঁর পরিবারের ৩ জন। দুর্ঘটনায় নিজের পরিবারের তিন সদস্যকেই হারান রোমিন ভোহরা। তারপর যখন তিনি হাসপাতালের মর্গে যান, সেখানে তিনি এমন কিছু দৃশ্য দেখেন যা তিনি “কখনও ভুলতে পারবেন না” বলে জানিয়েছেন সংবাদ সংস্থা ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

কন্ট্রোল ধরে রেখেছেন ক্যাপ্টেন… তখনও!
তিনি বলছেন, মর্গে তিনি যে অগ্নিদগ্ধ দেহগুলি দেখেছিলেন, তার মধ্যে ছিল ক্যাপ্টন সুমিত সাভারওয়ালের দেহও। রোমিন ভোহরা বলছেন, পাইলটের হাত তখনও ছিল কন্ট্রোলের উপর! বলছেন, “যে দেহগুলি আমি দেখি, তার মধ্যে ছিল বিমানের ক্যাপ্টেনের দেহও। যার হাতে তখনও বিমানের কন্ট্রোল ইউনিটটি শক্ত করে ধরা ছিল।” সেই ভয়াবহ বীভৎস দৃশ্য তাঁকে এখনও তাড়া করে বেড়ায়।

লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং 787 ড্রিমলাইনার AI-171 আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই পাটেল বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল ভবনের উপর ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা মোট ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু-সহ কমপক্ষে আরও ১৯ জন প্রাণ হারান। মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ২৭৫। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মাত্র একজন যাত্রী।

মৃতদের মধ্যে ছিলেন রোমিন ভোহরার পিসি ইয়াসমিন, তাঁর ভাই পারভেজ এবং তাঁর তিন বছরের ভাইঝি। ভোহরা জানান, কোভিডের সময় তিনি আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাব সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাই সেখানে তাঁর পরিচিত লোকজন ছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি মর্গে প্রবেশ করতে পারেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের দেহাবশেষ শনাক্ত করেন। কিন্তু সেখানে গিয়েই তিনি সেই বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হন।

মর্গের অভিজ্ঞতা
মর্গের দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে ভোহরা বলেছেন,অনেক মৃতদেহ মেঝেতে পাশাপাশি শুইয়ে রাখা ছিল। মাথা ও দেহাংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। এক দগ্ধ মায়ের কোলে তখনও তাঁর সন্তান ছিল। একটি ছোট মেয়ের খুলি ছিল, যা দেখে তিনি সেটিকে নিজের ভাইঝির ছবির সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করেন। আর ওই ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিক সাভারওয়ালের দেহ মর্গের এক কোণে আলাদা করে রাখা ছিল।

ভোহরা বলেছেন, “তিনি তখনও বসা অবস্থাতেই ছিলেন। তাঁর পিঠের অংশ পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু শরীরের সামনের অংশ একেবারে অক্ষত ছিল। পাইলটের সাদা ইউনিফর্ম শার্ট, কাঁধে চারটি সোনালি স্ট্রাইপ, কালো টাই ও প্যান্ট প্রায় অক্ষত ছিল। এমনকি তাঁর জুতোগুলিও তখনও পায়ে ছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, ক্যাপ্টেনের হাতে তখনও কন্ট্রোল ধরা ছিল।” বিমান নিয়ন্ত্রণের স্টিয়ারিং কন্ট্রোল তখনও শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল। দুর্ঘটনার অভিঘাতে যেটি ককপিট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন ভোহরা।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচানোর চেষ্টা!
এখন ভোহরার এই দাবি যদি সত্যি হয়,তাহলে বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাপ্টেন যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, ভোহরার বয়ান সেই তত্ত্বকে জোরদার করে। প্রসঙ্গত, মর্গের কয়েকজন কর্মীও ভোহরার দাবিকে সমর্থন করেছেন। প্রসঙ্গত,  গত বছরের ১২ জুলাই AAIB যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তাতে উল্লেখ করা হয় যে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ প্রায় একই সময়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে ককপিটে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

AAIB রিপোর্ট
রিপোর্টে ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং-এর একটি অংশেরও উল্লেখ করা হয়। যেখানে একজন পাইলট জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?” জবাবে অন্যজন বলেন, “আমি করিনি।” এই কথোপকথনের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয় যে পাইলটের ভুলের কারণে আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ক্যাপ্টেন সাভারওয়ালের পরিবার ও পাইলট সংগঠনগুলি এই প্রাথমিক রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করে। তাঁর ৮৮ বছরের বাবা পুষ্করাজ সাভারওয়াল এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। তারপর যে মামলায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্তে না আসার কথা বলা হয় শীর্ষ আদালতের তরফে।

(Feed Source: zeenews.com)