PM Modi in Netherlands: মোদীজির বিরাট সাফল্য, নেদারল্যান্ডসের মাটি থেকে ১০০০ বছরের পুরনো চোল তাম্রফলক জয় করলেন তিনি

PM Modi in Netherlands: মোদীজির বিরাট সাফল্য, নেদারল্যান্ডসের মাটি থেকে ১০০০ বছরের পুরনো চোল তাম্রফলক জয় করলেন তিনি

Netherlands Returns 11th Century Chola Copper Plates: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন আনুষ্ঠানিকভাবে চোলযুগের তামার থালা ভারতের হাতে হস্তান্তর করেন। হস্তান্তর করা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির দুটি সেট। এই সব প্লেটে মূলত প্রাচীন তামিল ও সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করে কিছু লেখা রয়েছে।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৩০০ বছর পর নেদারল্যান্ডস থেকে তাম্রফলক ফেরত পাচ্ছে ভারত! নেদারল্যান্ডসের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Prime Minister Narendra Modi) হাতে তুলে দেওয়া হল ঐতিহাসিক ১১ শতকের চোলযুগের তাম্রফলক (historic 11th-century Chola Copper Plates)। এটি ভারত-নেদারল্যান্ডস সংস্কৃতিসম্পর্কের ক্ষেত্রে (India-Netherlands cultural cooperation) এক স্মরণীয় মুহূর্ত। উপনিবেশিক আমলে লুণ্ঠিত ঐতিহাসিক সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য পেয়েছে ভারত। তামিলনাড়ুর নাগাপত্তনম থেকে ৩০০ বছরেরও বেশি আগে নিয়ে যাওয়া একাদশ শতাব্দীর চোল রাজবংশের এই ঐতিহাসিক তাম্রফলকগুলি ফিরে পাওয়াটা ভারতের পক্ষে, ভারতের ঐতিহ্যের পক্ষে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ সন্দেহ নেই!

শনিবার (১৬ মে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন আনুষ্ঠানিকভাবে চোলযুগের এই থালাগুলি হস্তান্তর করেন। হস্তান্তর করা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির দুটি সেট। প্রথম সেটে রয়েছে ২১টি বড় এবং ৩টি ছোট তামার প্লেট, যা একটি ব্রোঞ্জের আংটি দিয়ে একসঙ্গে আটকানো। এই সব প্লেটে মূলত প্রাচীন তামিল ও সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করে কিছু লেখা রয়েছে।

‘আনাইমঙ্গলম তাম্রফলক’

চোল বংশের মহান রাজা প্রথম রাজেন্দ্র চোল। তাঁর পিতা রাজা প্রথম রাজরাজের একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে রাষ্ট্রীয় দলিলে রূপ দিতে এই ফলকগুলি তৈরি করেছিলেন রাজেন্দ্র চোল। এগুলি ‘আনাইমঙ্গলম তাম্রফলক’ নামে পরিচিত। এতে তৎকালীন এক বৌদ্ধ তীর্থস্থান এবং কয়েকটি গ্রামের রাজস্বের অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি লিপিবদ্ধ আছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৬৮৭ থেকে ১৭০০ সালের মধ্যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ কোম্পানি যখন নাগাপত্তনম দখল করে দুর্গ নির্মাণ করছিল, তখন মাটি খুঁড়ে এই ফলকগুলি বের করা হয়। ১৭১২ সালের দিকে এক ডাচ যাজক দম্পতি এগুলি নেদারল্যান্ডসে নিয়ে চলে যান।

নিঃশর্তে ফেরত

১৮৬২ সালে ডাচ যাজক দম্পতির বংশধররা প্লেটগুলি নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। তখন থেকেই এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেফাজতেই ছিল। ২০২৩ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই মূল্যবান পুরাকীর্তিগুলি ফেরত চেয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে আবেদন করে। ডাচ সরকারের জাতীয় উপনিবেশিক সংগ্রহ কমিটি তদন্ত করে দেখতে পায়, প্লেটগুলি চোল আমলের ভারতীয় সম্পদ এবং তৎকালীন স্থানীয় মানুষের সম্মতি ছাড়াই এগুলি নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কমিটি কোনো শর্ত ছাড়াই এগুলি ভারতকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঐতিহাসিক সম্পদ 

এখন প্রতীকী হস্তান্তর হল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্লেটগুলি স্থায়ীভাবে ভারতে এসে পৌঁছবে। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক দফতর এগুলি গ্রহণ করবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য এগুলি কোথায় রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঐতিহাসিক এই সম্পদ ফেরত পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ এক পোস্টে চোল রাজবংশের সামুদ্রিক দক্ষতা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন এবং নেদারল্যান্ডস সরকার ও লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান।

ভারত নিয়ে নেদারল্যান্ডস

প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের আগে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন ভারত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডাচ সংবাদপত্র ডে ভল্সক্রান্ট (De Volkskrant)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জেটেন বলেন, ডাচ সরকারের উদ্বেগ, শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, বরং সেখানে (ভারতে) সংখ্যালঘুদের অধিকারও বিপন্ন! পরে তা নস্যাৎ করে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, এই ধরনের মন্তব্য ভারতের গণতান্ত্রিক ও সভ্যতাগত চরিত্র সম্পর্কে (উল্টোদিকের পক্ষের) পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকারই প্রকাশ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সিবি জর্জ বলেন, দেশের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই প্রায়শই ভারতের এই ধরনের সমালোচনা উঠে আসে। এই ধরনের প্রশ্ন মূলত সেই ব্যক্তির ভারত সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না-থাকার কারণেই ওঠে! ভারতের গণতান্ত্রিক পরিচয় তুলে ধরে সিবি জর্জ বলেন, ভারত একটি প্রাণবন্ত ও বহুত্ববাদী সমাজ, যার সভ্যতার ইতিহাস ৫০০০ বছরেরও বেশি পুরনো। ভারত ১৪০ কোটির দেশ, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও ধর্ম– সব ক্ষেত্রেই ভারত বৈচিত্র্যে ভরপুর। জর্জ যোগ করেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ– এই চার প্রধান ধর্মের উৎপত্তি ভারতে। এবং এগুলি এখনও দেশে সমানভাবে বিকশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বে আর কোনও দেশ নেই, যেখানে চারটি ধর্মের জন্ম হয়েছে! তিনি আরও জানান, ইহুদি সম্প্রদায় ২৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে বসবাস করছে এবং কখনও নির্যাতনের শিকার হয়নি। পাশাপাশি খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতে বিকশিত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেও সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন জর্জ। তাঁর কথায়, স্বাধীনতার সময় ভারতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ। এখন তা ২০ শতাংশেরও বেশি।

(Feed Source: zeenews.com)