সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল পেরিয়ে এবার আইনি দরজায় টলিউডের কাস্টিং কাউচ ও হেনস্থার বিতর্ক। টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং জোরপূর্বক চুম্বনের চেষ্টার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ এনে আইনি পথে হাঁটলেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অঙ্কিতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেবালয়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পরিচালককে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিবৃতি দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিনেত্রী।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল পেরিয়ে এবার আইনি দরজায় টলিউডের কাস্টিং কাউচ ও হেনস্থার বিতর্ক। টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং জোরপূর্বক চুম্বনের চেষ্টার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ এনে আইনি পথে হাঁটলেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অঙ্কিতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেবালয়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পরিচালককে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিবৃতি দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিনেত্রী।
অঙ্কিতা চক্রবর্তীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল একটি পার্টিতে। পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যকে আগে থেকেই চিনতেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধও ছিল অঙ্কিতার। ফলে পরিচালকের উপস্থিতিতে কোনো অস্বস্তি বোধ করেননি তিনি। কিন্তু অঙ্কিতার দাবি, পার্টির মাঝেই আচমকা তাঁর হাত ধরে টেনে একটি ঘরে নিয়ে যান দেবালয়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় অভিনেত্রীর। এরপরই পরিচালক তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনোমতে নিজেকে সামলে নেন এবং ওই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন অঙ্কিতা।
গত সপ্তাহেই ফেসবুকে দেবালয়ের একটি পোস্টকে ট্যাগ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “তোমার মতো নোংরা পারভার্ট… যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না… মদ খেয়ে অভিনেত্রীদের নিতম্বে হাত বোলায়, জোর করে ওই নোংরা গুটখা খাওয়া দাঁতে চুমু খেতে আসে? আর বাধা দিলে… পরের দিন নেশা কাটার পরে ক্ষমা না চেয়ে সঙ্গে-সঙ্গে বিভিন্ন কাজ থেকে কাঠি করে থাকে।”
অঙ্কিতার আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পর কাজের ক্ষেত্রেও তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করার কারণে তাঁকে রাতারাতি কাজ থেকে বাদ দেওয়া এবং অচেনা আচরণ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
অঙ্কিতা চক্রবর্তীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে মুখ খুলেছেন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যও। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেবালয় বলেন, “আমার বিশ্বাসযোগ্য লাগছে না, পুরোটাই মনে হচ্ছে সাজিয়ে জোর
পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিচালক প্রশ্ন তোলেন, অঙ্কিতার কাছে এই সব অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না। তিনি সাফ জানান, “উনি যা বলেছেন, তার প্রমাণ চাইব। আর আজকে সাংবাদিক বৈঠক দিয়ে উনি যা শুরু করেছেন, শেষ সাংবাদিক বৈঠকটা আমি করব।” দেবালয়ের মতে, যদি অঙ্কিতার উদ্দেশ্য শুধু বিচার পাওয়া হতো, তবে তিনি সরাসরি আইনি পথে হাঁটতেন বা তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে কুৎসা রটানোর উদ্দেশ্য কেবলই তাঁর সামাজিক সম্মানহানি করা।
টলিউডের অন্দরে পরিচালকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়, তবে অঙ্কিতা ও দেবালয়ের এই আইনি লড়াই ইন্ডাস্ট্রিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। ৭ দিনের সময়সীমার মধ্যে দেবালয় কী পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি সমীকরণ।
(Feed Source: zeenews.com)