
Mini AC: বাঁকুড়ার রায়পুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্ররা তৈরি করেছেন কম খরচের মিনি এসি। মাত্র আট হাজার টাকায় তৈরি এই যন্ত্র ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য সস্তা শীতলীকরণ সমাধান হতে পারে। উদ্ভাবনে রয়েছে কম্প্রেসার, কনডেন্সারসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
News18
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দোপাধ্যায়: লাল মাটির বাঁকুড়ায় প্রতিভার অভাব নেই। জেলার জঙ্গলমহলের রায়পুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের একদল পড়ুয়ার অভিনব উদ্যোগ এখন চর্চার কেন্দ্রে। এই প্রচন্ড দাবদাহে কলেজের কয়েকজন ছাত্র মিলে তাদের ফাইনাল প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি করেছেন একটি কম খরচের ‘মিনি এসি’। দাবী, তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে তৈরি এই এসি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে গরমের সময় স্বল্প খরচে শীতলতার বিকল্প হতে পারে।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুন্তল মুখার্জি,লালন মহন্ত ,শুভম ব্যানার্জী,কৌশিক মণ্ডল,বিবেক কুম্ভকার,গণেশ মিশ্র,সুদীপ্ত কোনার ও সৌরভ দত্ত’র দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও পরীক্ষানিরীক্ষার পর এবং দিবাকর ঘোষ এবং দেবজিৎ দেবানজীর গাইডেন্সে এই মিনি এসি তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন ছাত্ররা। প্রজেক্টে যুক্ত কুন্তল জানান, বাজারে প্রচলিত এসির তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কম খরচে কীভাবে একটি কার্যকর শীতলীকরণ যন্ত্র তৈরি করা যায়, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। তাঁদের দাবি, এসি তৈরি করতে খরচ হয়েছে আট হাজার থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা। বাঁকুড়া জেলায় এই ধরনের কম দামের এসি তৈরির উদ্যোগ এই প্রথম। তবে কেন এসির দাম সাধারণ এসির থেকে কম? এই এসিতে যে কম্প্রেসার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির ওয়াটেজ কম থাকায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে।
কম্প্রেসার, কনডেন্সার, এভাপরেটর, এক্সপান্সিয়াল ভালভ, কুলিং কয়েল ও এক্সহস্ট। এই জিনিসগুলো ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে শীত ও তাপ নিয়ন্ত্রনের যন্ত্রটি। ব্যবহার করা হয়েছে কাগজের পিচবোর্ড। প্রত্যেকটি কম্পোনেন্টকে সুন্দরভাবে লাগিয়ে পিচবোর্ড দিয়ে একটি বডি তৈরি করা হয়েছে। প্রজেক্ট এর সঙ্গে যুক্ত ছাত্র কুন্তল মুখার্জি জানিয়েছেন, “কেউ যদি ইনভেস্টমেন্টের জন্য এগিয়ে আসে সেই জন্য আমরা আগ্রহী রয়েছি। জঙ্গলমহল কিংবা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষেরা কম পয়সায় চাইলে এসি কিনতে পারবেন। আমরা ভবিষ্যতে এটিকে বড় পরিসরে করতে চাই।”
শুধু প্রজেক্ট হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতে এটি বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন কলেজের শিক্ষক মহল। ছাত্রদের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে খুশি কলেজ কর্তৃপক্ষও। জানা গিয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি সামনে আনতে আগ্রহী এবং পড়ুয়াদের এই সাফল্যের কথা বৃহত্তর স্তরে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে। গরমের মরশুমে স্বল্প খরচে শীতলতার নতুন দিশা দেখাতে পারে রায়পুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিকের এই উদ্যোগ— এমনটাই আশাবাদী ছাত্র ও শিক্ষকরা।
