কেরল সচিবালয়ে ১৩ নম্বর সংখ্যা নিয়ে এই বিভ্রাট নতুন নয়৷ অতীতে এ নিয়ে বিজেপি-র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে এতদিন ক্ষমতায় থাকা বামেদেরও৷
১৩ নম্বর গাড়ি নিয়ে সমস্যায় কেরলের নতুন সরকারও৷ (এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতীকী ছবি)
বাম গণতান্ত্রিক জোটকে পরাজিত করে কেরলে সরকার গঠন করেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ৷ নতুন মন্ত্রিসভা গঠনও হয়ে গিয়েছে৷ তবে নতুন সরকার গঠন হয়ে গেলেও কেরলের সচিবালয়ে পুরনো একটি সমস্যা থেকেই গিয়েছে৷ সমস্যা না বলে একে কুসংস্কার বলাও ভাল৷
বাম আমলের মতোই কেরলের নতুন মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যও সচিবালয়ের ১৩ নম্বর গাড়িটি ব্যবহার করতে চান না৷ জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনের মন্ত্রিসভার ২০ জন সদস্যের মধ্যে কেউই ১৩ নম্বর গাড়িটি ব্যবহারে নারাজ৷ নতুন মন্ত্রীদের সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই ফের এই সমস্যা সামনে এসেছে৷ কারণ কেরলের রাজনীতিতে অতীতেও এই ১৩ নম্বর গাড়িটি ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখাননি অন্যান্য মন্ত্রীরাও৷
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রীদের গাড়ি বরাদ্দ শুরু হওয়ার পর ১ থেকে ১২ নম্বর গাড়ি ব্যবহার করা নিয়ে কোনও আপত্তি জানাননি কোনও মন্ত্রীই৷ কিন্তু ১৩ নম্বর গাড়ি ব্যবহার করতে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকেই৷ রীতি মেনে ১ নম্বর গাড়িটি বরাদ্দ করা হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকেই৷ এর পর ২ থেকে ১২ নম্বর গাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে অন্যান্য ১১ জন মন্ত্রীকে৷
কেরলের রাজনীতিতে ১৩ নম্বর গাড়ি ব্যবহারে এই অনীহা নতুন নয়৷ কেরল সরকারের অতীতের একাধিক নির্দেশিকা ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এর আগেও ১৩ নম্বর গাড়ি বরাদ্দ করতে গিয়ে একই রকমের সমস্যার তৈরি হয়েছিল রাজ্যের সচিবালয়ে৷ এমন কি, সমস্যা সমাধানে ১৩ নম্বর সংখ্যাটি বাদ দিয়েই গাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছিল অতীতে৷ পূর্বতন সরকারগুলির আমলেও মন্ত্রীরা ১৩ নম্বর সংখ্যাটিকে অশুভ বলে ধরে নিয়ে ১৩ নম্বর গাড়ি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছিলেন৷
এই সমস্যা ফের সামনে আসায় সমাজমাধ্যমেও তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে৷ কেরলের মতো একটি প্রগতিশীল রাজ্যের জনপ্রতিনিধিরা কেন কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ১৩ নম্বর গাড়ি ব্যবহারে আপত্তি জানাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই৷
২০১৬ সালেও বাম গণতান্ত্রিক জোট সরকার গঠনের পর কোনও মন্ত্রী ১৩ নম্বর গাড়িটি ব্যবহার করতে চাননি৷ সেই সময় এ নিয়ে বামেদের কটাক্ষও করেছিল বিজেপি৷ শেষ পর্যন্ত তৎকালীন অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক ওই গাড়ি ব্যবহারে রাজি হন৷ তারও আগে ভি এস অচ্যুতানন্দনের সরকারের আমলেও প্রাক্তন মন্ত্রী এম এ বেবি কুসংস্কারকে মিথ্যে প্রমাণ করতে স্বেচ্ছায় ১৩ নম্বর গাড়ি ব্যবহারে রাজি হয়েছিলেন৷
তবে শুধু কেরলের মন্ত্রীরাই নন৷ একবার কেরল হাইকোর্টের ঘরগুলিতে নম্বর বসানোর সময়ও ১৩ সংখ্যাটিকে বাদ দেওয়া হয়৷ এ নিয়েও তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়৷ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ হাইকোর্টের ঘরের নম্বর হিসেবে কেন ১৩ সংখ্যাটিকে বাদ দেওয়া হল, এ নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেন এক ব্যক্তি৷ আবেদনে বলা হয়, হাইকোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এ ভাবে কুসংস্কারকে প্রশয় দেওয়া যায় না৷ প্রথমে কেরল হাইকোর্টেই এই মামলা করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দিয়ে মামলাকারীর জরিমানাও করে হাইকোর্ট৷ পরে অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে কেরল হাইকোর্টকে ভর্ৎসনা করে৷
(Feed Source: news18.com)