AC Cooling Limit: বাইরের তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি ছুঁলে কি আর কাজ করবে না AC? বড় তথ্য দিলেন বিশেষজ্ঞরা

AC Cooling Limit: বাইরের তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি ছুঁলে কি আর কাজ করবে না AC? বড় তথ্য দিলেন বিশেষজ্ঞরা

AC Cooling Limit: জয়সলমেরে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতেই সামনে এল এসির কুলিং সীমা নিয়ে বড় প্রশ্ন। জেনে নিন চরম গরমে AC কতটা কার্যকর, কেন কমে যায় কুলিং এবং কীভাবে বাঁচবেন ভয়াবহ তাপপ্রবাহ থেকে

মে মাসের প্রথম দু’সপ্তাহে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা নীচেই। ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের জোড়া ফলায় বৈশাখের দাবদাহ থেকে স্বস্তি পেলেও জৈষ্ঠ্য মাস পড়তে না পড়তেই ইনিংস দেখাতে শুরু করেছে তীব্র গরম। মে মাসের শেষ লগ্নে এসেও স্বস্তির দেখা নেই। শুক্রবার সকাল থেকেই প্যাচপ্যাচে গরমে নাজেহাল শহরবাসী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এখনই এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও চরমে উঠবে।

রাজস্থানের জয়সলমেরে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। মরুভূমির এই শহর এখন ভয়াবহ গরমের কবলে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ পুরোপুরি এয়ার কন্ডিশনার (AC)-এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে অনেকের মনেই এখন একটাই প্রশ্ন— এসি যদি সর্বোচ্চ ৫২ ডিগ্রি পর্যন্তই কুলিং করতে পারে, তাহলে তার পরে কী হবে? এসির কুলিং সীমা আসলে কতটা?

বেশিরভাগ এয়ার কন্ডিশনার ৫০-৫২ ডিগ্রি বাইরের তাপমাত্রা পর্যন্ত ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে এসির কুলিং ক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে। কারণ, এসি বাইরের গরম বাতাসের মধ্য থেকেই ঘরের তাপ বের করে ঠান্ডা বাতাস তৈরি করে। যখন বাইরের তাপমাত্রা ৫১-৫২ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়, তখন এসিকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

ফলাফল: ঘরের তাপমাত্রা ২৮-৩০ ডিগ্রির নিচে নামানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এসি টানা চলতে থাকে, কিন্তু ঠান্ডা কম পাওয়া যায়। বিদ্যুতের বিল আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। এসি দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

৫১-৫২ ডিগ্রিতে এসি কতটা কাজ করতে পারবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় এসির কার্যক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আপনি যদি এসিকে ২৪ ডিগ্রিতে সেট করেন, তাহলেও ঘরের তাপমাত্রা ৩০-৩২ ডিগ্রির বেশি ঠান্ডা নাও হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে এসি শুধু হাওয়া দিতে থাকবে, কিন্তু তেমন ঠান্ডা অনুভূত হবে না। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন? এসির তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন। ২০-২২ ডিগ্রিতে এসি সেট করা এড়িয়ে চলুন। এতে এসির উপর চাপ কম পড়বে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। নিয়মিত এসির সার্ভিসিং করান। গরমের আগে এবং গরমের মাঝামাঝি সময়ে ভালভাবে সার্ভিসিং করানো জরুরি। নোংরা ফিল্টার এবং ব্লক হয়ে থাকা কয়েল এসির কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

ঘরকে গরমের হাত থেকে বাঁচান— দিনের বেলা পর্দা টেনে রাখুন। ছাদে সাদা রিফ্লেক্টিভ পেন্ট করান। রাতে জানলা খুলে Cross Ventilation-এর ব্যবস্থা করুন। কুলারও ব্যবহার করতে পারেন। আগে ঘর কিছুটা ঠান্ডা করে তারপর এসি চালান। ইনভার্টার এসির সুবিধা— নতুন এসি কিনলে ইনভার্টার প্রযুক্তিযুক্ত এসি নেওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলি অতিরিক্ত গরমেও তুলনামূলক ভাল পারফর্ম করে।

ঘরকে গরমের হাত থেকে বাঁচাতে দিনের বেলা পর্দা বন্ধ রাখুন। ছাদে সাদা রিফ্লেক্টিভ পেন্ট করালে ঘরের তাপ অনেকটা কম থাকে। রাতে জানলা খুলে Cross Ventilation-এর ব্যবস্থা করুন, যাতে ঘরে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি কুলারও ব্যবহার করতে পারেন। আগে ঘর কিছুটা ঠান্ডা করে তারপর এসি চালালে বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যায়।

ইনভার্টার এসির সুবিধা: নতুন এসি কিনলে ইনভার্টার প্রযুক্তিযুক্ত এসি নেওয়াই ভাল। এই ধরনের এসি অতিরিক্ত গরমেও তুলনামূলক ভাল পারফর্ম করে এবং বিদ্যুৎও কম খরচ হয়।

স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখুন—৫০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই প্রচুর জল পান করুন, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং দুপুরের সময় অকারণে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

জয়সলমেরে ৫১ ডিগ্রি তাপমাত্রা এক বড় সতর্কবার্তা, যা দেখিয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরম কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এসি আমাদের স্বস্তির অন্যতম ভরসা হলেও, ৫২ ডিগ্রির পরে সেটিও কার্যত নিজের সীমায় পৌঁছে যায়। তাই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার এবং ঘরকে গরমের হাত থেকে বাঁচানোর উপায় মেনে চললেই এই ভয়াবহ গরমের মোকাবিলা করা সম্ভব।

(Feed Source: bhaskarhindi.com)