CJP founder Abhijit Dipke death threat: এখনই অ্যাকাউন্ট বন্ধ কর, নাহলে তোকে আমেরিকায় গিয়ে মেরে আসব, ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎকে প্রাণনাশের হুমকি

CJP founder Abhijit Dipke death threat: এখনই অ্যাকাউন্ট বন্ধ কর, নাহলে তোকে আমেরিকায় গিয়ে মেরে আসব, ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎকে প্রাণনাশের হুমকি

 

Cockroach Janata Party Big News: শেয়ার করা স্ক্রিনশটের একটি মেসেজে খুব খারাপ ভাষায় লেখা ছিল, ‘শোন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য তোকে টাকা দেওয়া হবে। নাহলে, আমরা তোকে আমেরিকাতে থাকলেও মেরে ফেলতে পারি।’

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যঙ্গাত্মক ও সামাজিক রসধর্মী রাজনৈতিক কনটেন্ট তৈরির জন্য গত দুদিনে ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party). এই পেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী ভারতীয় অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) খবরের শিরোনামে। এবার সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পেলেন অভিজিত্‍। সুদূর আমেরিকায় বসেই মেইলে তিনি এই হুমকি পেয়েছেন।

https://pbs.twimg.com/media/HI6Ca-gXoAAriIV?format=jpg&name=large

চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে বাস, ট্রেন– সর্বত্রই এখন নতুন কৌতূহল ও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। একে নতুন কোনও রাজনৈতিক দল মনে হলেও, আসলে কোনও খাতাকলমে প্রতিষ্ঠিত দল নয়। দেশজুড়ে অনলাইন মাধ্যমে সীমাবদ্ধ একটি ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম। দেশের নানা জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলাই এদের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি এই ‘পার্টি’ সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মতোই একটি অভিনব ইস্তাহার প্রকাশ করেছে যা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনের কথা ফুটিয়ে তোলায় অনেকেই এই ইস্তাহার দেখে খুশি।

ককরোচ জনতা পার্টির ইস্তাহার

কড়া নিষেধাজ্ঞা: দলবদলু বিধায়ক বা সাংসদদের রাজনীতিতে রুখতে দল পরিবর্তনের পর পরবর্তী ২০ বছর নির্বাচনে লড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়েছে।

নারী সংরক্ষণ: সংসদের মোট আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই মহিলাদের জন্য সরাসরি ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা: অবসর গ্রহণের পর বিচারপতিরা যাতে রাজনৈতিক ফায়দা বা রাজ্যসভার আসন না পান, তার উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী স্বচ্ছতা: বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কার: টাকা নিয়ে CBSE-তে নম্বর পুনর্মূল্যায়ন বন্ধ করার পাশাপাশি NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে এই ইস্তাহারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পেজ খোলার গত ৪-৫ দিনের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের ফ্যান ফলোয়ারের সংখ্যার থেকে এই পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা ব্যাপক আকার নিয়েছে। মূলত কম বয়সী ছেলেমেয়ে বা নেটিজেনরাই এই পেজের ফলেয়ার। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে রাজনীতির অচলায়তন কাটাতে দেশের তামাদি হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলে বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী, আপ, সিপিআইএম বা তৃণমূলের মতো দলগুলোর উপর বীতস্তদ্ধ হয়ে নতুন কিছু করার তাগিদে, নতুন কিছু ভাবার তাগিদে এই নতুন রাজনাতিক দলের ফ্যান হয়েছে নেটিজেনরা। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক দল উঠে আসবে। অনেকেই তা সমর্থন করছেন।

 শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) এই চাঞ্চল্যকর ‘মৃত্যু-হুমকির’ অভিযোগ সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-কয়েকটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে অভিজিৎ নিজেই এই বিষয়টি সামনে এনেছেন। সাইবার জগতে এবং রাজনৈতিক মহলে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক আলোড়ন।

হোয়াটসঅ্যাপে চিলিং ডেথ থ্রেট পাওয়া ককরোচ জনতা পার্টির মালিক অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য– অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হিন্দিতে লেখা বেশ কয়েকটি মারাত্মক হুমকি দেওয়া মেসেজ আসে। এই মেসেজগুলোর স্ক্রিনশট শেয়ার করে এক্স-এর পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এখন সরাসরি খুনের হুমকিও পাচ্ছি।’

শেয়ার করা স্ক্রিনশটের একটি মেসেজে খুব খারাপ ভাষায় লেখা ছিল, ‘শোন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য তোকে টাকা দেওয়া হবে। নাহলে, আমরা তোকে আমেরিকাতে থাকলেও মেরে ফেলতে পারি।’

আরেকটা মেসেজে থ্রেট দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের কাছে তোর নম্বর আছে। তোর বাড়ি খুঁজে বের করতে আমাদের বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না।’

ডিজিটাল মাধ্যমে এই  উদ্বেগের কথা প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে অভিজিতের অনুরাগী এবং সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চিন্তা হয়েছে। অনেকেই একে বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন।

সাধারণত হাস্যরস ও প্যারোডির মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়াবলী তুলে ধরার জন্য ককরোচ জনতা পার্টি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে বিগত কয়েকদিনে। কিন্তু সেই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতাকে এমন হুমকি দেওয়া (যেমন আমেরিকায় গিয়েও খুনের কথা বলা) বিষয়টিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ 

অভিজিৎ দিপকে এই হুমকি পাওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন কি না বা পুলিসে কোনও অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে এভাবে খুনের হুমকি দেওয়া খুব বড় অপরাধ। এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইপি অ্যাড্রেস ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

এই পরিস্থিতি ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয় এবং পুলিস প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে ‘আরশোলা’ (Cockroach) এবং ‘পরজীবী’ (Parasite)-র মতো চরম অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ হয়।

প্রধান বিচারপতির এই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং বেকার যুবকদের অধিকারের লড়াইকে এক অভিনব রূপ দিতে গত ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)।

তৃণমূলের দুই সাংসদ, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও CJP-তে যোগ দিয়েছেন।

(Feed Source: zeenews.com)