
Delhi Crime: প্রেম, বিয়ের ফাঁদ ফেলে তরুণীকে গণধর্ষণ। তারপর নজিরবিহীন নারকীয়তা। অভিযুক্তরা গ্রেফতার হলেও, জেলে বসেই নির্যাতিতাকে ফোন করে হুমকি। পুরো ঘটনার পিছনে বড় চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে পুলিস
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কিছুদিন আগে দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গণধর্ষণ। ২৩ বছরের তরুণীকে অপহরণ, গণধর্ষণ। এখানেই পাশবিকতা শেষ হয়নি। শারীরিক লালসা মেটানোর পর অকথ্য, অমানবিক অত্যাচার। । শুধু তাই নয়, ওই তরুণীকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দিল্লির বাটলা হাউস এলাকায় এই হাড়হিম ঘটনাটি ঘটে। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লির সাউথ ইস্ট জেলা পুলিস এফআইআর (FIR) দায়ের করে ইতোমধ্যেই চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, ২০২১ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। সেই সময় যুবকটি নিজের নাম ‘সাহিল’ বলে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্যাতিতা জানতে পারেন যে, সাহিলের আসল নাম ফাহিম। এবং সে নিজেকে একটি ধনী হিন্দু পরিবারের ছেলে বলে দাবি করেছিল এবং তরুণীকে বিয়ে করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিল।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে তাঁকে দিল্লির বাটলা হাউস এলাকায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক হল, ফাহিম এবং ওই তরুণীরই এক বান্ধবী মিলে নারকীয় অত্যাচারের ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিল। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি দেখিয়ে নির্যাতিতাকে লাগাতার ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। এরপর তাঁকে উত্তরপ্রদেশের মেরঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও তাঁর উপর আবারও যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
তরুণী তাঁর বয়ানে আরও কিছু ভয়ঙ্কর অভিযোগ করেছেন। তিনি জানতে পারেন যে ফাহিম এবং তার কিছু আত্মীয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নির্যাতিতা বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখানোর জন্য সে আমার শরীরে রক্ত ঢেলে দিত। এমনী আমার গায়ে পশুর মাংস ছুঁড়ে মারত যাতে আমি ভয়ে চুপ থাকি।’ পরবর্তীতে তসলিম মৌলভি নামে এক ব্যক্তিও তাঁর ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাহস জুগিয়ে পুলিসের দ্বারস্থ নির্যাতিতা
যেহেতু প্রথম গণধর্ষণের ঘটনাটি দিল্লির বাটলা হাউস এলাকায় ঘটেছিল, তাই দিল্লির জামিয়া নগর থানায় এই বিষয়ে একটি মামলা রুজু করা হয়। পুলিস তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। আরও জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে গুরুগ্রাম পুলিস অন্য একটি অপরাধের কারণে ফাহিমকে গ্রেফতার করেছিল। সেই সময় পুলিস ফাহিমের মোবাইলটি জব্দ করে। ওই ফোনেই তরুণীর সব আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো ছিল। ফোনটি পুলিসের কব্জায় চলে গিয়েছে জানতে পেরে তরুণীর মনে সাহস ফেরে যে তাঁর ভিডিয়ো আর বাইরে ছড়াবে না। এরপরই তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তবে তরুণীর দাবি, ফাহিম বর্তমানে দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি থাকলেও সেখান থেকেই সে কোনওভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। এছাড়া একটি দুবাইয়ের ফোন নম্বর থেকেও তরুণীকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে আর কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে পুরো বিষয়টির গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
