Delhi Crime: শেষ তিনটে শব্দ: ‘দিদি আমাকে বাঁচা’, ব্যাস কেটে গেল ফোন; তিশার পর এবার পণের বলি বীণা

Delhi Crime: শেষ তিনটে শব্দ: ‘দিদি আমাকে বাঁচা’, ব্যাস কেটে গেল ফোন; তিশার পর এবার পণের বলি বীণা

 

Delhi Dowry Case: ৩২ নয়, ৪৬ ইঞ্চির টিভি আনোনি কেন? এরপরও স্বামী রয়েল এনফ্লিড বাইকের চাহিদা। তাও সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বীণা। শেষে চরম পরিণতি। মাত্র সাত মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোপাল তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু দেশ জুড়ে তোলপাড় পরিস্থিতি। এরই মধ্যে ফের এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু। ফের পণের বলি। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে চারতলা থেকে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৃতার নাম বীণা। ঘটনাটি দিল্লির ইন্দারপুরী এলাকায়। ইতোমধ্যেই পুলিস এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী এবং তার এক ভাইকে গ্রেফতার করেছে।

মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেই বীণা নিজের বাড়িতে ফোন করেছিলেন। এবং নিজের দিদিকে জানিয়েছিলেন, ‘দিনি আমাকে বাঁচা’। ব্য়াস, তারপরই সব শেষ। গত ১৮ মে রাত ১০টা নাগাদ বীণা তাঁর বড় বোন রীনা SOS কল করেন।

রীনা জানিয়েছেন, বীণা কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে ফোন করেছিলেন। এবং বলেছিলেন, ‘দিদি আমাকে বাঁচা, ওরা আমাকে খুব মারছে। হয়তো আর পরে কথা বলতে পারব না। বাবাকে একটু ফোনটা দে। শেষবারের মত গলার আওয়াজটা শুনেনি।’ এরপরেই আচমকা ফোন কেটে যায়। বীণা তাঁর দিদিকে এও অনুরোধ করে গিয়েছিলেন যে, যেন তাঁর ছয় মাসে সন্তানকে তাঁরাই দেখাশোনা করে। এবং বাচ্চাকে যেন কোনওভাবেই না শ্বশুরবাড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই ফোন পাওয়ার পরই বীণার বাপের বাড়ির লোকজন অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বীণার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু মাত্র সাত মিনিট পরেই, যখন তাঁরা রাস্তায় ছিলেন, তখন বীণার ভাসুর তাঁদের ফোন করে জানান যে বীণা ছাদ থেকে নীচে পড়ে গেছেন। পুলিস এসে প্রতিবেশীদের সাহায্যে বীণাকে উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গত বুধবার দীন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বীণার দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (SDM) সামনে পরিবারের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পণের দাবিতে নির্মম অত্যাচার 
বীণার বাবা সুরেশ এবং তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সাড়ে তিন বছর আগে করোলবাগের একটি রিয়েল এস্টেট গ্রুপের প্রাইভেট হেল্পার হিসেবে কর্মরত ২৭ বছর বয়সী রাজু সিংয়ের সঙ্গে বীণার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় সাধ্যমতো যৌতুক ও উপহার দেওয়া সত্ত্বেও বিয়ের পর থেকেই বীণার ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত।

বীণার স্বামী রাজু সিং তাঁর বাপের বাড়ির কাছে একটি ‘রয়্যাল এনফিল্ড’ বাইকের দাবি জানাচ্ছিলেন। এমনকী বীণার ভাসুর প্রায়ই পণ নিয়ে বীণাকে বারবার কটূক্তি করতেন। বীণার পরিবার একটি ৩২ ইঞ্চির টিভি দেওয়ায় তিনি উপহাস করে বলতেন যে, তাঁর নিজের স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে ৪৬ ইঞ্চির টেলিভিশন এনেছেন, অথচ বীণা এনেছেন মাত্র ৩২ ইঞ্চির।

বীণার ছোট ভাই সাংবাদিকদের কাছে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, একবার দিদির বাড়িতে তিনি টানা ১৫ দিন ছিলেন এবং নিজের চোখে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বীণাকে মারধর ও গালিগালাজ করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘একবার ওরা দিদিকে এত মারাত্মকভাবে মেরেছিল যে ওর কানের পর্দা ফেটে গিয়েছিল। আমাদের নিয়ে গিয়ে ওঁর চিকিৎসা করাতে হয়েছিল। কিন্তু দিদি কখনওই পুলিসের কাছে অভিযোগ করতে দেয়নি, কারণ ও যেভাবেই হোক নিজের সংসারটা বাঁচাতে চেয়েছিল এবং আমাদের পরিবারের সম্মানের কথা ভেবেছিল।’

মৃত্যুর ঠিক আগে বীণার ভাইও একটি ফোন পেয়েছিলেন। তিনি জানান, ‘১৮ মে বড়দি আমাকে ফোন করে কাঁদছিল আর বলছিল— আমাকে বাঁচা, ওরা আমাকে খুব মারছে, ওরা আমাকে মেরেই ফেলবে। এরপরই ফোন কেটে যায়। পরে ওর ভাসুর ফোন করে দাবি করে যে দিদি নাকি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে।’

শ্বশুরবাড়ির সাফাই

এদিকে বীণার শ্বশুর জয়পাল সিং তাঁর ছেলে ও পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা যৌতুক নির্যাতন, মারধর এবং খুনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি দিল্লির বাড়িতে ছিলেন না, নিজের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। পুত্রবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দিল্লি ছুটে আসেন।

দিল্লি পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও দুই ভাসুরের বিরুদ্ধে কঠোর সমাজবিরোধী যৌতুক আইনে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী রাজু সিং এবং তাঁর এক ভাইকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ বা অন্য কারো হাত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিসি তদন্ত জারি রয়েছে।

ভূপালের তিশা শর্মা এবং গ্রেটার নয়ডার দীপিকার পর দিল্লির বীণার এই মর্মান্তিক মৃত্যু দেশজুড়ে নতুন করে পণ প্রথার নৃশংস রূপকে এবং নারীদের সুরক্ষাহীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)