২১ বছর বয়সী নাসির বেস্ট নামের ওই হামলাকারী একটি চেকপয়েন্টে মোতায়েন সিক্রেট সার্ভিস কর্তাদের উপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে সিক্রেট সার্ভিস তাকে গুলি করে৷
শনিবার সন্ধ্যায় আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে ধুন্ধুমার। হঠাৎ হোয়াইট হাউসের বাইরে গোলাগুলি শুরু হতেই শোরগোল পড়ে যায়৷ সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের ঠিক বাইরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং ১৭তম স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের কাছে ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পুলিশ৷ তার নাম নাসির বেস্ট৷
নাসির বেস্টের বয়স ২১ বছর, মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা৷ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বেস্টের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার একটি নথিভুক্ত ইতিহাস ছিল এবং তিনি আগেও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নজরে এসেছিলেন। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধে ৬টার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের চেকপয়েন্টের কাছে ঘটনাটি ঘটে, যখন সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মোতায়েন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি যখন ঘটে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভিতরে ছিলেন, তবে পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন যে এই গোলাগুলিতে তাঁর উপর কোনও প্রভাব পড়েনি। স্থানটি ছিল হোয়াইট হাউস থেকে অল্প দূরে অবস্থিত একটি নিরাপত্তা চৌকি এলাকা, ১৭তম স্ট্রিট এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এনডব্লিউ। সিক্রেট সার্ভিসের মতে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হঠাৎ তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটি বন্দুক বের করে কর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। প্রায় ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হলে নিরাপত্তা কর্মীরাও পাল্টা গুলি চালায়। এই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে একজন পথচারীও আহত হন, তবে তিনি সন্দেহভাজনের গুলিতে নাকি সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নাসির বেস্টের নাম আগে থেকেই সিক্রেট সার্ভিসের রেকর্ডে ছিল। ফক্স নিউজ জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের ২৬ জুন তিনি এজেন্টদের থামিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের ১০ জুলাই, একটি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয় যে, তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্ট’ বলে মনে করতেন এবং পূর্বে আদালতের আদেশে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে ছিলেন। তবে, কর্তারা এখনও তার এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।
হোয়াইট হাউস চত্বরের ভেতরে থাকা সাংবাদিকরা একাধিক গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদক সেলিনা ওয়াং তখন ভিডিও ধারণ করছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই গোলাগুলি শুরু হয় এবং সবাইকে দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং কক্ষে আশ্রয় নিতে বলা হয়। একজন কানাডীয় পর্যটক বলেন, প্রথমে তার মনে হয়েছিল শব্দটি ২০-২৫টি পটকার মতো, কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন যে এটি আসলে গুলির শব্দ ছিল।
ঘটনাটির পর এলাকাটিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও এফবিআই সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে হলুদ রঙের টেপ দেখা যাচ্ছিল। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। গত মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সময় গুলি চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার এক র‍্যালিতে ট্রাম্পের কানে গুলি লাগে।