
Bhopal Twisha Sharma Suicide Case: তিশার স্বামী সমর্থ সিং এখন পুলিসের হেফাজতে আছেন। পুলিস এই ৭ দিন ধরে তাঁকে খুব কড়াভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তিশার বাপের বাড়ির লোক বলছেন এটি একটি ‘খুন’, আর শ্বশুরবাড়ির লোক বলছেন এটি ‘আত্মহত্যা’। তবে পুলিস কোনও তাড়াহুড়ো না করে সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের রেকর্ড এবং ডাক্তারের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আসল সত্যিটা খোঁজার চেষ্টা করছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ভোপালে তিশা শর্মী রহস্যমৃত্যুর জল গড়িয়ে দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নয়ডার বাসিন্দা তিশার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সমর্থ সিংয়ের। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায়, গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড মানসিক অত্যাচার করা হত।
এই ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন তিশার স্বামী আইনজীবী সমর্থ সিং। আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর তিনি আত্মসমর্পণ করতে যান এবং পুলিস তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ৭ দিনের পুলিসি হেফাজতে থাকা সমর্থকে জেরা করে এবং তিশার পরিবারের থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
পুলিসের জেরায় স্বামী সমর্থ সিং দাবি করেছেন যে, গত ১৭ এপ্রিল হাসপাতালের রিপোর্টে জানা যায় তিশা প্রেগন্যান্ট। সমর্থের দাবি, এরপর থেকেই তিশার আচরণ বদলে গিয়েছিল। তিশা নাকী ঘরসংসার করতে চাইছিলেন না। তিনি নাকি প্রায়ই বলতেন যে তিনি ‘গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড’-এর মানুষ, সাধারণ গৃহবধূর জীবন তাঁর জন্য নয়। ১৭ এপ্রিলই তিশা রেগে গিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান এবং ২৩ এপ্রিল ফিরে আসেন। এরপর ২৪ এপ্রিল সমর্থের বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিশা সেখানে না গিয়ে রাজস্থানে তাঁর ভাইয়ের কাছে চলে যান এবং ৩০ এপ্রিল আবার ভোপালে ফিরে আসেন। তবে তিশার পরিবারের বক্তব্য একেবারেই উলটো। তাঁদের অভিযোগ, পেটের সন্তানের বাবা কে- তা নিয়ে সমর্থ প্রতিনিয়ত তিশাকে নোংরা প্রশ্ন করতেন এবং মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এই কারণেই তিশা প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন।
ইতোমধ্যেই পুলিস ট্রেনের টিকিট, বিমানের টিকিট এবং তিশার ফোনের লোকেশন পরীক্ষা করে দেখছে তিশা সত্যি এই দিনগুলোতে যাতায়াত করেছিলেন কি না। একই সঙ্গে পুলিস বোঝার চেষ্টা করছে, তিশার মন সত্যি বদলে গিয়েছিল নাকি সমর্থ নিজের দোষ ঢাকতে তিশার নামে বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছেন।
পরিবারের লোকজন বুঝিয়ে গত ২৩ এপ্রিল তিশাকে আবার ভোপালে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তাঁদের অশান্তি কমেনি। ২৪ এপ্রিল সমর্থের বেঙ্গালুরু যাওয়ার টিকিট কাটা ছিল, কিন্তু তিশা সেখানে না গিয়ে রাজস্থানের আজমেরে তাঁর ভাইয়ের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। তিশা তাঁর মায়ের কাছে মোবাইলে বেশ কিছু মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার ও দমবন্ধ করা পরিবেশের কথা লেখা ছিল। একটি মেসেজে তিশা লিখেছিলেন, আমার দম আটকে আসছে মা। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।
গত ১২ মে, অর্থাৎ মৃত্যুর দিন রাতেও রাজস্থানের আজমেরে যাওয়া নিয়ে তিশা এবং সমর্থের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়েছিল। রাত ১০টা ৫ মিনিটে তিশা ফোনে তাঁর মাকে সব জানাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘরে স্বামী সমর্থ ঢুকে পড়ায় তিশা ফোন কেটে দেন। এর পর তিশার মা ও ভাই বারবার ফোন করলেও সমর্থ বা তাঁর মা কেউ ফোন ধরেননি। কয়েক ঘণ্টা পর সমর্থের মা ফোন করে জানান যে তিশা মারা গিয়েছেন।
গ্রেফতারের পরও আদালতে তোলার সময় সমর্থের চোখে মুখে কোনও ভয় বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। তিনি একদম শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই ঘটনার পর ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ (BCI) সমর্থ সিংয়ের ওকালতি করার লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছে। সমর্থের মা গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। তিনি আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও পুলিসি তদন্তে একদম সাহায্য করছেন না বলে অভিযোগ। ভোপাল পুলিস জানিয়েছে, সমর্থকে যারা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ মে-র সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যে: মিনিট টু মিনিট হিসাব
১২ মে তিশার মৃত্যুর দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কী কী হয়েছিল, পুলিস সমর্থের থেকে তার পুরো হিসাব চাইছে। সমর্থ পুলিসকে যে গল্প জানিয়েছেন তা হল:
সন্ধ্যে ৬টায় তিশা পার্লার থেকে বাড়ি ফেরেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তিশাকে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সমর্থ ও তিশা দুজনে বাড়ির সামনের পার্কে হাঁটতে গিয়েছিলেন।
এরপর তাঁরা বাড়ি ফিরে একসঙ্গে রাতের খাবার খান এবং সাড়ে ৮টা নাগাদ নিজেদের ঘরে টিভি দেখতে যান।
কিছুক্ষণ পর তিশা নিচের ঘরে যান এবং নিজের মা-বাবার সাথে ফোনে কথা বলতে থাকেন। সমর্থ দাবি করেছেন, তিনি খুব ক্লান্ত থাকায় তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
পুলিসের মনে যে প্রশ্ন উঠছে: যদি তিশা আর সমর্থের মধ্যে সবকিছু এতই ভালো ছিল, দুজনে একসাথে পার্কে বেড়ালেন, একসঙ্গে রাতের খাবার খেলেন, তবে তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটল যে তিশা গলায় ফাঁস দিয়ে নিলেন? খাবারের পর কি তাঁদের মধ্যে কোনও বড় ঝগড়া হয়েছিল? তিশা কেন কেঁদে কেঁদে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন?
পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ
ভোপালের তিশা শর্মা মৃত্যুর ঘটনাটি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার আসল সত্যিটা সামনে আনার জন্য মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট একটি বড় নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লির ‘এইমস’ (AIIMS) হাসপাতালের চারজন বড় ডাক্তারের একটি টিম ভোপালে গিয়ে তিশার মরদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করবে, যাতে মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
