Terrible Train Blast: ইদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন: চলন্ত ট্রেনে ভয়ংকর বিস্ফোরণ, ছিন্নভিন্ন অন্তত সেনা-সহ ২৪ যাত্রী

Terrible Train Blast: ইদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন: চলন্ত ট্রেনে ভয়ংকর বিস্ফোরণ, ছিন্নভিন্ন অন্তত সেনা-সহ ২৪ যাত্রী

 

Pakistan Train Blast: যাত্রীবাহী ট্রেনে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ। এই শক্তিশালী হামলায় অন্তত ২৪ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য রয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের কারণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের ভিতরের অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা নতুন নয়। রবিবার বালুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় ভয়ংকর বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলির খবর সামনে এসেছে। যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করে চালানো ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। চারদিকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, এটি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো একটি সুইসাইড অ্যাটাক হতে পারে বলে আশঙ্কা।

রবিবার কোয়েটার চমন ফটক রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল। ইদের ছুটি কাটাতে তারা ওই ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি যখন চমন ফটক এলাকার একটি সিগন্যাল পার হচ্ছিল, ঠিক তখনই বিস্ফোরক বোঝাই একটি ডিভাইস একটি কোচের ওপর আঘাত হানে এবং প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ট্রেনের একটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ উলটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের এলাকায় আগুন ধরে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি থাকা বেশ কয়েকটি যানবাহন দাউদাউ করে জ্বলছে এবং আশেপাশের বিল্ডিংগুলো থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে আসা ভিডিয়ো এবং ছবিতে দেখা যায়, ট্রেনের উলটে যাওয়া বগির ধ্বংসস্তূপের ওপর মানুষ চড়ে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং স্ট্রেচারে করে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু করে। এরপরও শান্ত হয়নি এলাকা। বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ওই এলাকায় ব্যাপক ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আরও তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর কোয়েটার সমস্ত সরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের তলব করা হয়েছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পেশোয়ারগামী ‘জাফর এক্সপ্রেস’ নামের আরেকটি ট্রেনকে কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনেই থামিয়ে দেওয়া হয়। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র বাবর ইউসুফজাই জানিয়েছেন, এই হামলার পর সরকারের সব উদ্ধারকারী দল এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য তিনি সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বালুচিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি

পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় হলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে নানা রকম অশান্তি ও সহিংসতা চলছে। স্থানীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সরকারের বিরুদ্ধে খনিজ সম্পদ শোষণের অভিযোগ তুলে প্রায়ই সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনার পর পুলিস ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা দ্রুত খুঁজে বের করা যায়।

(Feed Source: zeenews.com)