CPIM to alliance with TMC Big Update: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার কি সিপিআইএম-তৃণমূল জোট? রাজনীতির বড় আপডেট

CPIM to alliance with TMC Big Update: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার কি সিপিআইএম-তৃণমূল জোট? রাজনীতির বড় আপডেট

CPIM Politburo Member M A Baby: দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজীব চক্রবর্তী: বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআইএম। দলের সর্বভারতীয় পলিটব্যুরো সদস্য তথা কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা এম এ বেবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে যৌথভাবে কোনও আন্দোলন বা নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রশ্নই ওঠে না।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন:

এম এ বেবির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সমস্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ভোটের সময় সিপিএম কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা চালানো, বুথ দখল করা, ভোটদানে বাধা দেওয়া এবং বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে তৃণমূল।

এমন এক অত্যাচারী এবং অগণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে হাত মেলানোর কোনও রাজনৈতিক বা নৈতিক যুক্তি থাকতে পারে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তাঁর মতে, যারা নিজের রাজ্যে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করা অসম্ভব।

সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনে কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের এই অবস্থানের ওপর তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই বর্ষীয়ান বাম নেতা। তিনি জানিয়ে দেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো যেভাবে তৃণমূলের তৈরি করা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বিরোধীদের ওপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, আজ তৃণমূলের পরিস্থিতিও ঠিক সেই রকম।

তৃণমূলের অভিযোগকে কটাক্ষ করে এম এ বেবি বলেন,

‘আজ তৃণমূল যে কারচুপি বা চাপের অভিযোগ তুলছে, তা আসলে তাদের অতীত কর্মেরই ফল। যে কৌশল বা পদ্ধতি একসময় তারা বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করত, আজ তারা নিজেরাই অন্য এক শক্তির কাছে সেই একই কৌশলের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলছে।’

দ্বিমুখী লড়াইয়ের পথেই বামেরা?

সিপিআইএমের এই শীর্ষ নেতার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, বাংলায় তারা ‘এক ইঞ্চিও’ জমি ছাড়তে নারাজ। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিরোধী দল একজোট হওয়ার কথা বললেও, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৃণমূলের সঙ্গে কোনওরকম মঞ্চ ভাগ করার পক্ষপাতী নয় আলিমুদ্দিন। দলীয় কর্মীদের আবেগ এবং রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিপিএম স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল– দুই দলের বিরুদ্ধেই থাকবে তারা কারণ রাজনৈতিক আদর্শ একেবেরাই আলাদা। একক শক্তিতে এবং বাম শরিকদের সঙ্গে নিয়েই দ্বিমুখী লড়াই চালাবে মার্কসবাদী কম্যুউনিস্ট পার্টি। এম এ বেবির এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

(Feed Source: zeenews.com)