)
NIA 7500 pages chargesheet in Red Fort Blast: ফ্ল্যাটেই সাধারণ লবণের দ্রবণ থেকেই বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ বানাত উমর নবি। ভুয়ো আইডি, অনলাইনে কেনা বিস্ফোরক উপকরণ আর বাড়ির ল্যাবেটরিতে বানানো বোমা- দিল্লি লালকেল্লা বিস্ফোরণ ‘ডিকোড’ করতে গিয়ে এনআইএ-র তদন্তকারীদের উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজধানীর রাস্তায় রক্তের স্রোত! আর্তদের চিৎকার! কান্নার রোল! ২০২৫-এর ১০ নভেম্বর, মুহূর্তে ভারী হয়ে উঠেছিল দিল্লির বাতাস। লালকেল্লার সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন ১১ জন। আহত বহু। ভয়ংকর সেই আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার সামনে এল হাড়িহম রিপোর্ট। ভুয়ো আইডি, অনলাইনে কেনা বিস্ফোরক উপকরণ আর বাড়ির ল্যাবেটরিতেই বানানো বোমা- দিল্লি লালকেল্লা বিস্ফোরণ ‘ডিকোড’ করতে গিয়ে এনআইএ-র তদন্তকারীদের উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা গিয়েছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণে মূল অভিযুক্ত উমর নবি ভুয়া পরিচয়ে বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করেছিল। অনলাইন ও অফলাইন— দুভাবেই বিস্ফোরক তৈরির জন্য রাসায়নিক পদার্থ ও নানাবিধ সরঞ্জাম কিনেছিল। হরিয়ানার ফরিদাবাদে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিজের ফ্ল্যাটেই ছোট আকারের একটি অস্থায়ী ল্যাবরেটরি তৈরি করেছিল। সেই ল্যাবে সে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাসায়নিক ও বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালায়। পরে সেই ফ্ল্যাটেই পরীক্ষামূলকভাবে বোমা তৈরির চেষ্টাও করে।
ডেলিভারি চালানে ব্রেক- থ্রু
NIA তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে ২০২৪-এর ২৫ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ীর দেওয়া একটি ডেলিভারি চালান। যেখানে মিক্সড মেটাল অক্সাইড (এমএমও) কোটেড টাইটানিয়াম অ্যানোড কেনার তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে। এই বিশেষ ইলেক্ট্রোড ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়। ওদিকে অপর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, উমর ফ্ল্যাটেই সাধারণ লবণের দ্রবণ থেকে ক্লোরেট ও পারক্লোরেট তৈরির জন্য ইলেক্ট্রোলাইসিস করত। গবেষণার সময়ই সে এই পদ্ধতি রপ্ত করেছিল। উল্লেখ্য, ক্লোরেট ও পারক্লোরেট সাধারণত আতশবাজি ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। উমর সেটাই বানাত!
“রাহুল ভাট” নামে ইন্ডিয়ামার্টে ভুয়ো আইডি
এখন অ্যানোডের প্রকৃত ক্রেতা উমর থাকলেও, চালানে ক্রেতার নাম ও মোবাইল নম্বর অন্য একজনের দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এনআইএ তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে উমর নবি “রাহুল ভাট” নামে ভুয়ো আইডি তৈরি করে ইন্ডিয়ামার্ট প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। সেখানে সে সার ব্যাগ, অ্যাসিটোন সলভেন্ট, অ্যানোড এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের খোঁজ করে। এরপর উমর মুম্বইয়ের ওই দোকানদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফোন-পে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা পাঠায়। দোকানদার টাকা পেয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটি ঠিকানায় সামগ্রী পাঠিয়ে দেন। আর সেখান থেকে উমর নিজে গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে।
১০টি অ্যানোড কেনার প্ল্যান
ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে উমর পরে আরও ১০টি অ্যানোড কেনার জন্যও দরাদরি করেছিল। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তদন্তে আরও জানা যায়, উমর এবং অভিযুক্ত ড. মুজাম্মিল শাকিল গত বছরের ১২ এপ্রিল গুজরাটের আমদাবাদে যায় বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহ করতে। সেখানে একটি মসজিদে নামাজও পড়ে। পরদিন তারা আল ফালাহে ফিরে আসে। তদন্তে এনআইএ এই মডিউলের সঙ্গে আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ), যা আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, তার সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। ১৪ মে NIA লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে। সেখানে মোট ১০ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
