Ranveer Singh FWICE Ban Explainer: ‘ডন ৩’ ও রণবীর সিং সংঘাত: কেন খলনায়কের ভূমিকায় ফিল্ম ফেডারেশন? বলিউডের অন্দরের বিস্ফোরক খতিয়ান

Ranveer Singh FWICE Ban Explainer: ‘ডন ৩’ ও রণবীর সিং সংঘাত: কেন খলনায়কের ভূমিকায় ফিল্ম ফেডারেশন? বলিউডের অন্দরের বিস্ফোরক খতিয়ান

 

Ranveer Singh Don 3 Controversy: বলিউডে মহা-সংঘাত! কেন হঠাৎ রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার ডাক দিল ফিল্ম ফেডারেশন? শুটিং শুরুর মাত্র ৩ সপ্তাহ আগে ‘ডন ৩’ প্রোজেক্ট থেকে রণবীরের আকস্মিক প্রস্থান এবং প্রযোজকদের ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি! এরপর ফেডারেশনের ৩টি নোটিশ এড়িয়ে যাওয়াই কি কাল হলো অভিনেতার? এবার বিপাকে রণবীরের আগামী ছবিগুলো!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডের দুনিয়ায় ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির একটা আলাদা মহিমা রয়েছে। অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান— এই রাজদণ্ড যাঁর হাতেই উঠেছে, তিনিই বক্স অফিসে রাজত্ব করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ফারহান আখতার যখন ‘ডন ৩’ (Don 3)-এর ঘোষণা করেন এবং নতুন ডন হিসেবে সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের নাম সামনে আসে, তখন থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই বহুপ্রতীক্ষিত ছবিই এখন রূপ নিয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি ও পেশাদার সংঘাতে।

টানাপোড়েন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সোমবার ফিল্ম ফেডারেশন বা ‘ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ’ (FWICE) অভিনেতা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ‘নন-কোপারেশন ডিরেক্টিভ’ বা অসহযোগিতা নির্দেশিকা জারি করেছে। সোজা কথায়, যা বলিউডের বুকে রণবীরের ওপর একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ‘শ্যাডো ব্যান’। কিন্তু গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের এই চরম সংঘাতের পেছনের আসল কারণ কী?

কোটি কোটি টাকার ক্ষতি ও নোটিসের লড়াই

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ছবির প্রি-প্রডাকশন পর্বের একেবারে শেষ মুহূর্তে। অভিযোগ, ‘ডন ৩’-এর শুটিংয়ের জন্য যখন গোটা ইউনিট বিদেশে রওনা হওয়ার ঠিক তিন সপ্তাহ আগে দাঁড়িয়ে, তখনই আচমকা প্রজেক্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রণবীর সিং। পরিচালকের টিম যখন লোকেশন রেকি থেকে শুরু করে সেটের সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে, তখন অভিনেতার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে জোর ধাক্কা খায় প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’। হিসাব কষে দেখা গেছে, রণবীরের এই আকস্মিক এক্সিট বা সরে দাঁড়ানোর কারণে প্রযোজক ও পরিচালকের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এই বিপুল ক্ষতির পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ পরিচালক ফারহান আখতার গত ১১ এপ্রিল ফেডারেশনের দ্বারস্থ হন এবং একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ফেডারেশনও নিয়ম মেনে রণবীর সিংকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য পরপর নোটিস পাঠাতে শুরু করে। প্রথম নোটিসটি পাঠানো হয় গত ২২ এপ্রিল। এরপর মনে করিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় রিমাইন্ডার যায় ৩০ এপ্রিল। এবং চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হয় চলতি বছরের ১৩ মে। কিন্তু অভিযোগ, রণবীর বা তাঁর টিমের তরফ থেকে এই তিনটি নোটিশের কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি, যা ফেডারেশনের কর্তাদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে।

আইনি বনাম নৈতিকতার লড়াই: রণবীরের যুক্তি

ফেডারেশনের অভিযোগের মুখে অবশেষে রণবীর সিংয়ের লিগ্যাল টিম বা মুখপাত্রের তরফ থেকে যে জবাব আসে, তা এই আগুনকে আরও উস্কে দেয়। অভিনেতার টিম লিখিতভাবে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, কোনো চুক্তিভিত্তিক বিবাদ বা কর্পোরেট আইনি বিষয় মীমাংসা করার জন্য FWICE কোনো সঠিক বা আইনি মঞ্চ নয়। এই ধরনের বিবাদের মীমাংসা হওয়া উচিত দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে।

রণবীর সিংয়ের এই কড়া আইনি অবস্থান এবং ফেডারেশনের নোটিশকে কার্যত গুরুত্ব না দেওয়ার মনোভাবকেই নিজেদের অহংকারে আঘাত হিসেবে দেখেছে কর্মী সংগঠনটি। আর ঠিক এই কারণেই সোমবার তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে রণবীরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার ডাক দেয় তারা।

কতটা শক্তিশালী এই ফেডারেশন?

অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে, একটি ফিল্ম ফেডারেশন কীভাবে বলিউডের এক নম্বর সারির সুপারস্টারের কেরিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে? এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এফডব্লিউআইসিই (FWICE)-এর আসল ক্ষমতা। এটি আসলে মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ান, জুনিয়র আর্টিস্ট, স্পটবয়, মেকআপ আর্টিস্ট, ক্যামেরাম্যান, স্টান্ট ডিরেক্টরসহ ৩০টি ভিন্ন ক্রাফটের প্রায় ৪ লাখ কর্মীর একটি শীর্ষ অভিভাবক সংস্থা বা ‘মাদার বডি’। বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ দৈনিক মজুরির কর্মী এবং কারিগরেরা এই ফেডারেশনের নিবন্ধিত সদস্য। ফেডারেশনের নিজস্ব একটি অলিখিত সংবিধান ও নীতি রয়েছে। তাদের দাবি, কোনো প্রযোজক বা অভিনেতা যদি ইন্ডাস্ট্রির কর্মীদের বা প্রোজেক্টের বড় ক্ষতি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নৈতিক অধিকার ফেডারেশনের রয়েছে।

রণবীরের কেরিয়ারে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব

যদিও অশোক পণ্ডিতের মতো ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো ‘আদালতি ব্যান’ নয়, কারণ আইনত কাউকে নিষিদ্ধ করার এক্তিয়ার তাঁদের নেই, তবুও এই ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’-র প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক হতে চলেছে। এর সহজ অর্থ হল, ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ৪ লাখ কর্মীর কেউই এখন থেকে রণবীর সিংয়ের কোনো নতুন সিনেমার সেটে কাজ করবেন না। কোনো মেকআপ আর্টিস্ট তাঁর টাচ-আপ করবেন না, কোনো লাইটম্যান আলো ধরবেন না, আর কোনো ক্যামেরাম্যান ফ্রেম সেট করবেন না। এর ফলে রণবীরের আগামী ছবিগুলির শুটিং সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বলিউডের অন্দরের এই বড়সড় বিবাদ ফিল্ম দুনিয়ার কর্পোরেট চুক্তি ব্যবস্থা এবং তারকাদের খেয়ালখুশির অভ্যন্তরীণ জটিলতাকে আরও একবার নগ্নভাবে প্রকাশ্যে এনে দিল। এখন দেখার, এই মাদার বডি বনাম মেগাস্টারের লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন আইনি বা আপোসের পথে গিয়ে থামে। যদিও ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না বলেই জানিয়েছেন রণবীর।

(Feed Source: zeenews.com)