
Don 3 Controversy: বলিউডে রণবীর সিং বনাম ফারহান আখতারের ‘ডন ৩’ বিবাদ এবার আরও জটিল! রণবীরের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের (FWICE) নেওয়া ‘অসহযোগিতা’ পদক্ষেপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতাদের সংগঠন CINTAA-এর সভাপতি পুনম ধিলোন। তাঁর অভিযোগ, রণবীর তাঁদের মেম্বার হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়ে আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘ডন থ্রি’ (Don 3) থেকে রণবীর সিংয়ের আকস্মিক সরে দাঁড়ানো এবং তার জেরে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে টালমাটাল বলিউড। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (CINTAA)-এর সভাপতি তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পুনম ধিলোঁ। রণবীরের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের নেওয়া ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’ বা একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পুনম ধিলোঁ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রণবীর সিং সিন্টার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই গোটা প্রক্রিয়ায় অভিনেতা, প্রযোজক ফারহান আখতার কিংবা ফেডারেশন— কোনো পক্ষই অভিনেতাদের অফিশিয়াল ট্রেড ইউনিয়নকে অন্ধকারে রেখে কাজ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এক সাক্ষাৎকারে পুনম ঢিলোঁ বলেন, “এটি অত্যন্ত অদ্ভুত একটি পরিস্থিতি। রণবীর আমাদেরই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। কিন্তু এই বিবাদের বিষয়ে শিল্পী, প্রযোজক কিংবা ফেডারেশন— কেউই আমাদের আগে থেকে জানাননি বা বিশ্বস্ততায় নেননি। আমাদের যদি জানানো হতো, তবে আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতে পারতাম। কোনো অভিনেতা এবং প্রযোজকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা মিটিয়ে ফেলার জন্যই আমাদের এই অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হয়েছে।”
রণবীর সিংয়ের উদ্দেশ্যেও কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা গেছে পুনমের গলায়। তিনি মনে করেন, রণবীরের উচিত ছিল ব্যক্তিগত স্তরে বিষয়টি সামলানোর পাশাপাশি নিজের অ্যাসোসিয়েশনের সাহায্য নেওয়া, যাতে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা যেত। তবে একই সঙ্গে পুনম ধিলোন কোনো পক্ষকে দোষারোপ করতে রাজি হননি। তাঁর কথায়, “যেহেতু আমাদের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই, তাই কে ঠিক আর কে ভুল— তা এই মুহূর্তে বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
কেন ‘ডন’ রণবীরের ওপর চটল ফেডারেশন?
ঘটনার সূত্রপাত গত এপ্রিল মাসে, যখন ‘ডন ৩’-এর পরিচালক ফারহান আখতার এবং প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি এফডব্লিউআইসিই (FWICE)-এর কাছে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, সিনেমার শুটিং দল বিদেশে রওনা হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই আচমকা প্রজেক্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন রণবীর। এর ফলে প্রযোজনা সংস্থা এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রি-প্রডাকশন ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
ফেডারেশনের মুখ্য উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত আজ একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নিয়ম মেনে রণবীর সিংকে পরপর তিনটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁদের মুখোমুখি বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু রণবীরের টিম সেই নোটিশের কোনো জবাব দেয়নি। উল্টে সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক আগে রণবীরের মুখপাত্রের তরফ থেকে ইমেইল করে জানানো হয় যে, এই চুক্তিভিত্তিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো এক্তিয়ার বা একচেটিয়া অধিকার ফেডারেশনের নেই। এর পরেই ক্ষুব্ধ হয়ে এফডব্লিউআইসিই (FWICE) রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কোপারেশন ডিরেক্টিভ’ বা অসহযোগিতার ডাক দেয়।
বলিউডে রণবীর সিংকে ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নিয়ে আজ মুখ খুলেছেন অশোক পণ্ডিত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়। ফেডারেশন কোনো আদালত নয় যে কাউকে ব্যান করবে। এটি মূলত একটি ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’। এর অর্থ হলো, ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ৩০টি ক্রাফটের (যেমন টেকনিশিয়ান, মেকআপ আর্টিস্ট, ক্যামেরাম্যান ইত্যাদি) প্রায় ৪ লাখ সদস্য রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনো শুটে কাজ করবেন না। যতক্ষণ না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ এই নির্দেশিকা বজায় থাকবে। ইন্ডাস্ট্রিকে একটি ভুল ট্রেন্ড থেকে বাঁচাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, রণবীর সিংয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন যে, রণবীর ডন ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখেন। পেশাদার আলোচনা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময় মর্যাদার সঙ্গে হ্যান্ডেল করা উচিত, তাই রণবীর এই সমস্ত জল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না। তাঁর পুরো ফোকাস এখন ভবিষ্যতের কাজের প্রতি।
(Feed Source: zeenews.com)
