)
UN Report on Bangladesh 2024 Protest: চিঠিতে বলা হয়েছে যে, রিপোর্টে আন্দোলন চলাকালীন ১,৪০০ জন প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা ভুল। এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি গেজেট ও অন্যান্য রিপোর্টের মধ্যে পরিসংখ্যানগত বৈসাদৃশ্যকে তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ ১,৪০০ জন নিহতের সংখ্যা প্রত্যাহার ও সংশোধনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
মৌমিতা চক্রবর্তী: ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্ট, ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের উপর হাসিনা পুলিসের দমন-পীড়ন নীতির অভিযোগ। মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ। সেই ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে ভুল রয়েছে বলে দাবি। আর সেই মর্মেই এবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি দিয়েছেন আইনি পরামর্শদাতা স্টিভেন পাউলস কেসি।
চিঠিতে বলা হয়েছে যে, রিপোর্টে আন্দোলন চলাকালীন ১,৪০০ জন প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা ভুল। তা সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি গেজেট ও অন্যান্য রিপোর্টের মধ্যে পরিসংখ্যানগত বৈসাদৃশ্যকে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব অফিসিয়াল গেজেট, “The Gazette of Martyrs of the July Uprising 2024”, -এ নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৮৩৪ জন বলে উল্লেখ। যা রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের সংখ্যার অর্ধেকের কাছাকাছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব ওয়েবসাইট (shohid.info) অনুযায়ীও নিহতের সংখ্যা ৬৫০ জন।
আইনি পরামর্শদাতার মতে, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার আরও কম হিসেব-ই পাওয়া যাবে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে ও তাঁকে গণহত্যাকারী হিসেবে চিত্রিত করার জন্যই নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ড. মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে এই তদন্ত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করেন।। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই তদন্ত প্রভাবিত হয়েছিল।
পাশাপাশি চিঠিতে এও বলা হয়েছে যে, এই আন্দোলন কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ ছিল না। বরং এটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল অপারেশন। যার মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ আলম। রাষ্ট্রসংঘের তদন্তের সময়সীমা শুধুমাত্র ২০২৪-এর ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ছিল। এর ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা আসার পর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে সহিংসতা চালিয়েছে, যেভাবে মানবাধিকার লংঘন করেছে, তা তদন্তের বাইরে থেকে গেছে ।
চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লংঘন করে। যা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রসিকিউটরের কাছে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ‘আর্টিকেল ১৫’-এর অধীনে একটি আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আন্দোলনে মানুষের প্রাণহানি একটি অত্যন্ত ও গভীর দুঃখজনক ঘটনা। যা নিয়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার পুলিসের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। সবমিলিয়ে তথ্যপ্রমাণ ও যুক্তি সাজিয়ে রাষ্ট্রসংঘের কাছে রিপোর্টে উল্লেখ ১,৪০০ জন নিহতের সংখ্যা প্রত্যাহার ও সংশোধনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
