বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ হিসাবে উপেক্ষিত হওয়ার পরই বোমা ফাটিয়েছিলেন সৌরাশিস লাহিড়ী । বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার জানিয়েছিলেন, নির্বাচকেরা সিন্ডিকেট তৈরি করে দলে ক্রিকেটার ঢোকানোর চেষ্টা করেছিলেন। সহকারী কোচ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। সিএবি-ও অসহযোগিতা করেছিল। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রিভিউ মিটিং করা হয়নি।
সৌরাশিসের বিরুদ্ধে তোপ, অস্বস্তিতে নির্বাচকেরাও
ঈরণ রায় বর্মন, কলকাতা: সিএবি পরিচালিত বাংলা ক্রিকেটে কোচ নির্বাচন হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের নাম সৌরাশিস লাহিড়ী। গত বছর অনূর্ধ্ব ১৯ বাংলা দলের দায়িত্বে থাকা সৌরাশিসকে কোচ হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত করেনি সিএবি। তাঁর পরিবর্তে অনূর্ধ্ব ১৯ বাংলা দলের কোচ মনোজ তিওয়ারি। সিনিয়র এবং বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলের কোচ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মুখ খুলতে শুরু করেন সৌরাশিস লাহিড়ী। একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সৌরাশিসের অভিযোগগুলোর মূল বক্তব্য ছিল, প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম করে তাঁকে বাংলা দলে নির্দিষ্ট একটি ক্রিকেটারকে নেওয়ার কথা বলা হত। তিনি তাকে বাধ্য হয়ে দলে নিতেন কিন্তু খেলা দেন না। আবার কখনও অভিযোগ করেন, নির্বাচকেরা সিন্ডিকেট তৈরি করে দলে ক্রিকেটার ঢোকানোর চেষ্টা করতেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রিভিউ মিটিং করা হত না।
এছাড়াও এই বছর ৩ সদস্যের কমিটির সামনে ভাল ইন্টারভিউ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেন। পাশাপাশি বাদ দেওয়া হলেও সিএবি তাকে কিছু না জানানোয় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়া। তবে সৌরাশিসের অভিযোগগুলিকে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা কোচের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ আনল বাংলার জুনিয়র নির্বাচকেরা। জুনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সৌমিত্র মজুমদার এবং প্রবীর আচার্য, শঙ্কর ভট্টাচার্য, সত্যেন ভট্টাচার্য ও প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোচের ভূমিকাই শেষ কথা ছিল। সৌরাশিস নিজের পছন্দের ক্রিকেটারদের দলে রাখতেন। সব সময় পছন্দের দলই পেয়েছিলেন সৌরাশিস।
প্রধান নির্বাচক সৌমিত্র মজুমদার কী বললেন?
‘‘প্যাটসির সব অভিযোগ মিথ্যে। অহেতুক আমাদের নামে দোষারোপ করছে। আসলে কোচিং থেকে বাদ পড়ার পরেই অন্যায় ভাবে তাদের উপর গায়ে চাপাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সৌরাশিস কেন আমাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ করেছে জানি না। এরকম অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যেও ভিত্তিহীন।’’ আরেক নির্বাচক সত্যেন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা প্রাথমিক দল নির্বাচনে সাহায্য করি। তবে ম্যাচে কোন ক্রিকেটার খেলবে, কোন পজিশনে খেলবে, সেটা কোচের সিদ্ধান্ত। আমরা নাক গলাই না।’’ পাশাপাশি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম করে দলে ক্রিকেটার ঢোকানো হত বলে যে অভিযোগ সৌরাশিস করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন পাঁচ সদস্যের জুনিয়র সিলেকশন কমিটি।

একযোগে তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, ‘‘সৌরাশিস অতিরিক্ত নেট বলার হিসেবে নিজে থেকেই কয়েকজনকে নিয়ে যেত। সেই কারণে বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন অনুযায়ী ১৬ জন ক্রিকেটার চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকার কথা থাকলেও দু-তিনজন অতিরিক্ত হত। আর সেটা কোচ নিজেই পছন্দ করে নিতেন।’’ গুরুতর অভিযোগ ছাড়াও বেশ কিছু নাম ধরে ধরে ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নির্বাচকদের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেছিলেন প্রাক্তন কোচ। যদিও প্রত্যেকটি ঘটনা অস্বীকার করে সদস্যের জুনিয়র সিলেকশন কমিটির সদস্যদের দাবি, সৌরাশিসের প্রত্যেকটা অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রত্যেক খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে এবং সেটা তৎকালীন সময়ে কোচের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
জুনিয়র ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক সৌমিত্র মজুমদার, শঙ্কর ভট্টাচার্য, প্রবীর আচার্য, সত্যেন ভট্টাচার্যরা এদিন একসঙ্গে সিএবিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কমিটির ৫ সদস্য ছাড়াও সৌরাশিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলা দলের প্রাক্তন ট্রেনার অঙ্কুর চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সৌরাশিস তাঁর সঙ্গে চূড়ান্ত অপমানজনক খারাপ ব্যবহার করেছিল। কোচ পরিবার নিয়ে ট্যুরে যাওয়ায় তাকে নিজের ঘর ছেড়ে দিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে ট্রেনার হিসাবে অঙ্কুর অপমানিত হওয়ায় নিজের দায়িত্ব থেকে তুলে দাঁড়ান।
সব মিলিয়ে একটা কথা বলাই যায় বাংলা ক্রিকেট এখন সরগরম। গোটা ঘটনায় সৌরাশিস নতুন করে কী প্রতিক্রিয়া দেন এখন সেটাই দেখার।
(Feed Source: news18.com)