Twisha Sharma death case: মৃত্যুুর আগের ঠিক ১৫ মিনিটেই লুকিয়ে বড় রহস্য: ফোন থেকে জোর করে ২০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার, ভয়ংকর CCTV ফুটেজ

Twisha Sharma death case: মৃত্যুুর আগের ঠিক ১৫ মিনিটেই লুকিয়ে বড় রহস্য: ফোন থেকে জোর করে ২০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার, ভয়ংকর CCTV ফুটেজ

 

CBI on Twisha Sharma Case: ত্বিশার পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ত্বিশার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে জোর করে ট্রান্সফার বা বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে যে, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে ত্বিশার উপর চলা অত্যাচার এবং তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কোনও সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নয়ডার প্রাক্তন মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-এর তদন্ত প্রক্রিয়া যতই এগোচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে আসছে।

ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় ত্বিশার শ্বশুরবাড়িতে তাঁর রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে সিবিআই অফিসাররা আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি মৃত্যুর ঠিক আগের শেষ মুহূর্তের কল লগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই রহস্যের জট ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

এই মামলায় ইতোমধ্যেই ত্বিশার স্বামী সামর্থ্য সিং, পেশায় আইনজীবী এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং– অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারককে গ্রেফতার করে সিবিআই ৫ দিনের হেফাজতে নিয়েছে।

২০ লক্ষ টাকার শেয়ার ও আর্থিক প্রতারণা?

তদন্তে নেমে সিবিআই-এর হাতে অন্যতম বড় একটি সূত্র এসেছে। জানা যাচ্ছে, বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের পর থেকেই ত্বিশার ওপর তাঁর আইনজীবী স্বামী সামর্থ্য সিং এবং প্রভাবশালী শাশুড়ি গিরিবালা সিং মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছিলেন।

ত্বিশার পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ত্বিশার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে জোর করে ট্রান্সফার বা বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে যে, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে ত্বিশার উপর চলা অত্যাচার এবং তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কোনও সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না।

মৃত্যুর আগের শেষ ১৫ মিনিট ঠিক কী হয়েছিল?

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে রাতে ত্বিশার মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে টাইমলাইন অত্যন্ত সন্দেহজনক। তিশার পরিবার জানিয়েছে:

রাত ১০:০৫ মিনিট: ত্বিশা তাঁর নয়ডার বাড়িতে মাকে ফোন করেন এবং কান্নাকাটি করে শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর চলা চরম অত্যাচারের কথা জানান। ত্বিশার ভাইয়ের দাবি, সেই সময় হঠাতই সামর্থ্য সিং ঘরে আসায় ফোনটি কেটে যায়।

রাত ১০:০৫ থেকে ১০:২০ মিনিট: এই ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ত্বিশার পরিবার মেয়ের ফোনে বা তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কেউ ফোন তোলেননি।

রাত ১০:২০ মিনিট: মাত্র ১৫ মিনিট পরেই শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে ত্বিশার পরিবারকে ফোন করে জানানো হয় যে তাঁদের মেয়ে আর বেঁচে নেই।

সিবিআই এই শেষ মুহূর্তের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং কল লগ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে। ১৫ মিনিটের মধ্যে কী এমন ঘটল যে একটি সুস্থ মেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সিসিটিভি এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

এই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্ট এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। ত্বিশার পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী প্রাক্তন বিচারক হওয়ায় গিরিবালা সিং নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার বা এডিট করার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় ভোপাল পুলিসও শুরুতে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ।

তবে হাইকোর্ট গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিন খারিজ করার পরই সিবিআই অ্যাকশনে নামে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ত্বিশার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত (Second Autopsy) করেছে, যার রিপোর্টে নিহত মডেলের শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তাই এখন এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলতে নারাজ তদন্তকারীদল।

CBI এরপর কী করবে?

বর্তমানে সিবিআই ত্বিশার স্বামী সামর্থ্য সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা করছে। ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন বা ঘটনার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, ১২ মে ঠিক কী ঘটেছিল কাটারা হিলসের ওই ফ্ল্যাটে।

ত্বিশার তুতো বোন মীনাক্ষী জানিয়েছেন, বিয়ের পর মাত্র কয়েক মাসেই তিশার ওজন প্রায় ১৫ কেজি কমে গিয়েছিল। একজন ডাকাবুকো মডেল থেকে ত্বিশাকে যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল, তার পেছনে থাকা সমস্ত সত্য এবং নাটকের কুশীলবদের মুখোশ খুলে দিতে সিবিআই এখন তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)