Vinesh Phogat: ‘দঙ্গল কন্যা’কে কে রুখবে? ভিনেশের এশিয়াড স্বপ্নে জ্বালানি, ‘সুপ্রিম’ ধোবি পাছাড়ে ব্যাকফুটে ফেডারেশন!

Vinesh Phogat: ‘দঙ্গল কন্যা’কে কে রুখবে? ভিনেশের এশিয়াড স্বপ্নে জ্বালানি, ‘সুপ্রিম’ ধোবি পাছাড়ে ব্যাকফুটে ফেডারেশন!

 

Vinesh Phogat: ‘দঙ্গল কন্যা’কে কে রুখবে? ভিনেশ ফোগাটের এশিয়াড স্বপ্নে জ্বালানি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ধোবি পাছাড়ে পুরো ব্যাকফুটে ফেডারেশন!

জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ অবসর ভেঙে আবারও কুস্তির ম্যাটে ফিরছেন ‘দঙ্গল’ কন্যা ভিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat)। দেশের অন্যতম সেরা কুস্তিগিরের পাখির চোখ আসন্ন এশিয়ান গেমস। সেখানেই কামব্যাক করতে চেয়েছিলেন এশিয়াডের সোনা-ব্রোঞ্জ জয়ী। তবে দিল্লি হাই কোর্টের স্থতিগাদেশে এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে নামার পথই বন্ধ হতে বসেছিল ১৮ মাস পর কুস্তিতে ফেরা ভিনেশের! কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের নির্দেশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালত  ফেডারেশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ভিনেশকে ট্রায়ালে নামতেই দিতে হবে। যদিও ভিনেশকে ডোপ পরীক্ষা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার, ২৯ মে, বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনটির শুনানি গ্রহণ করেন। যেহেতু আগামী ৩০ মে থেকে এশিয়াডের ট্রায়াল শুরু হওয়ার কথা ছিল, তাই আদালত শেষ মুহূর্তে এই প্রক্রিয়াটিতে ব্যাঘাত না ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে কার্যত ভিনেশকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। শুনানির পুরো সময় জুড়ে, দিল্লি হাইকোর্ট যেভাবে এই বিষয়টি পরিচালনা করেছিল, তা নিয়ে বেঞ্চ তাদের অসন্তোষ বা আপত্তি প্রকাশ করে। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন যে, ফেডারেশনের নীতিকে কীভাবে ‘বর্জনমূলক’ (exclusionary) হিসেবে আখ্যায়িত করা সম্ভব, যেখানে যোগ্যতার মাপকাঠিগুলি সকল কুস্তিগিরের ক্ষেত্রেই সমান ভাবে প্রযোজ্য।মাতৃত্ব এবং লিঙ্গ বৈষম্য সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়েও আদালত আপত্তি জানায়। আদালত মন্তব্য করে যে, ক্রীড়া প্রশাসনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এই ধরনের বিষয়গুলিকে দাঁড় করানো যেতে পারে না। শুনানির সময় ‘দেশই সবার আগে’, এই মূলভাবটি বারবার উঠে আসে। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদদের অবশ্যই যোগ্যতা ও বিধি-বিধান সংক্রান্ত সমস্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে ভিনেশের বিশেষ মর্যাদার বিষয়টিও স্বীকার করেছে। আদালত তাঁকে ‘কোনও সাধারণ ক্রীড়াবিদ নন’ হিসেবেই অভিহিত করেছে এবং একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিয়ান হিসেবে তার কৃতিত্ব ও অর্জনগুলিকে যথাযথ স্বীকৃতি দিয়েছে।

ডোপিং এবং যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

সুপ্রিম কোর্ট ডোপিং-বিরোধী বিধি মেনে চলা এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শর্তাবলি সংক্রান্ত উদ্বেগগুলিও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিকালে, বিচারকদের বেঞ্চ এমন কিছু নথিপত্রের উল্লেখ করেন যা নির্দেশ করে যে, ফোগাট ডোপিং পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং তাঁর ‘অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য’ (whereabouts filings) জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল। বিচারকরা এও পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই ধরনের বিষয়গুলিকে হালকাভাবে উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে যখন কোনও ক্রীড়াবিদ জাতীয় দলে নিজের জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়ছেন। আদালত উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক ডোপিং-বিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী, ডোপিং পরীক্ষা এবং অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের শর্তগুলি বারবার মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। ফোগাট বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন কি না এবং ট্রায়ালের আগে ফেডারেশনের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কেন এই বিরোধ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াল?

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে ফেডারেশনের সংশোধিত নির্বাচন নীতি থেকে। এই নীতি অনুযায়ী ট্রায়ালে অংশগ্রহণের সুযোগ কেবল সেই কুস্তিগিরদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল, যারা নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত, (যার মধ্যে নির্ধারিত টুর্নামেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ অন্যতম) পূরণ করেছেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ফেরার পর অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় ফোগাট এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানান। তার আইনি দল যুক্তি উপস্থাপন করে যে, ফেডারেশনের এই মানদণ্ড একজন অত্যন্ত কৃতী ক্রীড়াবিদকে অন্যায় ভাবে অসুবিধাজনক অবস্থানে ফেলে দিয়েছে, যিনি সন্তান জন্মদানের পর পুনরায় নিজের পেশাগত কেরিয়ার শুরু করার চেষ্টা করছেন। ফোগাটের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী মাধবী দিওয়ান যুক্তি দেন যে, ফেডারেশন তার অতীতের অসাধারণ সাফল্যগুলিকে উপেক্ষা করেছে এবং কার্যত তার প্রত্যাবর্তনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্বাচনের এই কাঠামোট অতিরিক্ত মাত্রায় অনমনীয় হয়ে উঠেছে এবং প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তনকারী কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদদের বিশেষ পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ডব্লিউএফআই তাদের অবস্থানে অটল থেকে জানায় যে, এই নিয়মাবলি সকল কুস্তিগিরের ক্ষেত্রেই সমান ভাবে প্রযোজ্য। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলে যে, কেবল একজন ক্রীড়াবিদের জন্য যোগ্যতার শর্ত শিথিল করাটা সেইসব কুস্তিগিরের প্রতি অন্যায় হবে, যারা নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ ভাবে মেনে চলেছেন।

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রায়াল বা বাছাই পরীক্ষা

হাইকোর্টের যুক্তির সমালোচনা করা সত্ত্বেও, সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেয় যে, যখন ট্রায়াল শুরু হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখন ভিনেশকে তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখাটা অনুচিত হবে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এই পরিস্থিতির উদ্ভবই হওয়া উচিত ছিল না। পাশাপাশি আদালত আদালতের কক্ষের বাইরেই ক্রীড়াবিদ-সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সমাধানের লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। আইনি বাধা আপাতত অপসারিত হওয়ায়, এখন সবার মনোযোগ নিবদ্ধ হবে কুস্তির ‘ম্যাট’ বা রিংয়ের দিকে। ট্রায়ালের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন ফোগাট; অন্যদিকে, ক্রীড়াবিদদের কল্যাণ, মাতৃত্বকালীন বিরতি এবং ক্রীড়া-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে যে বৃহত্তর বিতর্কটি শুরু হয়েছে, তা সম্ভবত এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকবে।

(Feed Source: zeenews.com)