অভিনেত্রী ত্বিশার দেহ কি সত্যিই নামিয়েছিলেন স্বামী ও শ্বাশুড়ি? ৮০ কেজির ডামি নিয়ে পরীক্ষা!

অভিনেত্রী ত্বিশার দেহ কি সত্যিই নামিয়েছিলেন স্বামী ও শ্বাশুড়ি? ৮০ কেজির ডামি নিয়ে পরীক্ষা!

 

ভোপালের বহুচর্চিত ত্বিশা শর্মা রহস্যমৃত্যু মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করল সিবিআই। এবার ঘটনার পুনর্গঠন বা ‘ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন’-এর পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।  অভিনেত্রীর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনাক্রম ফের তৈরি করবে CBI। সূত্রের খবর, ত্বিশা কে কীভাবে ফাঁস থেকে নামানো হয়েছিল, সেটাই খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারী দল। সেই জন্য ব্যবহার করা হবে প্রায় ৮০ কেজি ওজনের একটি ডামি। অভিযুক্তদের দাবি ও ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে আদৌ মিল রয়েছে কিনা, তা যাচাই করাই এখন CBI-র প্রধান লক্ষ্য।

কী দাবি করেছেন সমর্থ সিং?

জিজ্ঞাসাবাদে সমর্থ সিং দাবি করেছেন, তিনিই ত্বিশা কে ফাঁস থেকে নামিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিং তাঁর গলার ফাঁস খুলেছিলেন। এই দাবি যাচাই করতেই এবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে মা-ছেলেকে। তদন্তকারীরা চাইছেন, তাঁরা নিজেরাই দেখান ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল।

ডামি ব্যবহার করে হবে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ

CBI সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ৮০ কেজির ডামি ঝুলিয়ে সমর্থকে দেখাতে হবে কীভাবে তিনি দেহ নামিয়েছিলেন। অন্যদিকে গিরিবালাকেও দেখাতে হবে কীভাবে তিনি গলার ফাঁস খুলেছিলেন। শুধু তাই নয়, ত্বিশা যে বেল্ট ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই বেল্টের শক্তিও পরীক্ষা করা হবে। কতটা ওজন বহন করতে পারে সেই বেল্ট, সেটিও খতিয়ে দেখবে ফরেন্সিক দল।

CBI হেফাজতে সমর্থ ও গিরিবালা

গত বৃহস্পতিবার গিরিবালা সিংকে গ্রেফতার করে CBI। তার আগের দিন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর অগ্রিম জামিন খারিজ করে দেয়। আদালত সমর্থ ও গিরিবালাকে ২ জুন পর্যন্ত CBI হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা প্রথমে আলাদা করে জেরা করবেন মা ও ছেলেকে। এরপর মুখোমুখি বসিয়ে তাঁদের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ত্বিশা র শরীরে আঘাতের চিহ্ন? উঠছে নতুন প্রশ্ন

সূত্রের খবর, গিরিবালাকে জেরা করে ত্বিশার গর্ভাবস্থা এবং তাঁর শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন নিয়েও একাধিক প্রশ্ন করেছে CBI।ত্বিশা শর্মাকে গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ত্বিশার পরিবার অভিযোগ করে, দীর্ঘদিন ধরে পণ নিয়ে নির্যাতন চলছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত।

আগেই ফরেন্সিক টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল CBI

এর আগেও দিল্লি থেকে বিশেষ ফরেন্সিক টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল CBI। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ। ১২ মে রাতের ঘটনাক্রম নিয়ে সমর্থ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল সেখানেই। এখন ‘ক্রাইম সিন রি-ক্রিয়েশন’-এর মাধ্যমে তদন্তে বড় অগ্রগতি হতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।

(Feed Source: abplive.com)