বিয়ের পর ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কোন বছরে? ৭ নয়, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল সমীক্ষা, কীভাবে সম্পর্কে পুরনো আবেগ ফেরাবেন? পড়ুন

বিয়ের পর ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কোন বছরে? ৭ নয়, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল সমীক্ষা, কীভাবে সম্পর্কে পুরনো আবেগ ফেরাবেন? পড়ুন

 

বিয়ের সাত বছরেই কি সম্পর্কের ভাঙন সবচেয়ে বেশি হয়? নতুন সমীক্ষা বলছে, বাস্তবে ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দাম্পত্যের অন্য বছরে। কেন এই পর্যায়ে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়, কী কারণে বাড়ে মতোবিরোধ, কীভাবে হারিয়ে যাওয়া আবেগ ও ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনা যায়? জানুন গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিয়ে বা দীর্ঘদিনের সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হল, সাত বছর পর সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে থাকে। অনেকেই একে Seven-Year Itch বলেন। একাধিক সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, সম্পর্কে সাত বছর পার হওয়ার পর অনেকের জীবনেই একঘেয়েমি, দূরত্ব বা অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এল অন্য তথ্য!

সদ্য একটি গবেষণায়বিশেষজ্ঞরা জানালেন, বিবাহিত জীবনে ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কোন বছরে। দাম্পত্য জীবনে কোন বছরে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি বেড়ে যায়?

একাধিক সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব ও জনসংখ্যাগত গবেষণা, বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেনসাস ব্যুরো এবং জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যানড্রিও চার্লিনের গবেষণার তথ্য বলছে, বিয়ের ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বিবাহিত সম্পর্ক সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

একাধিক সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব ও জনসংখ্যাগত গবেষণা, বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেনসাস ব্যুরো এবং জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যানড্রিও চার্লিনের গবেষণার তথ্য বলছে, বিয়ের ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বিবাহিত সম্পর্ক সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

বিয়ের ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যেই ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে অবশ্যই সবার ক্ষেত্রে নয়। এই সময়ে সন্তান জন্ম, আর্থিক চাপ, কর্মজীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিবর্তন, সব মিলিয়ে নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে বিবাহিত সম্পর্ক।

গবেষণা বলছে, বিয়ের ৫-৮ বছরের মধ্যেই সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত, তার পরীক্ষা হয়।মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্পর্ক ভাঙার পেছনে সাধারণত কোনও একটি বড় কারণ থাকে না, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অবহেলা কাজ করে। একইভাবে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতেও প্রয়োজন কিছু সহজ কিন্তু নিয়মিত অভ্যাস। যেমন–

১. প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় শুধু একে অপরের জন্য রাখুন–কাজ, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্বের ভিড়ে অনেক দম্পতিই নিজেদের জন্য আলাদা সময় বার করতে পারেন না। অথচ প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিনিট মন খুলে কথা বলুন। দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া বা একসঙ্গে হাঁটতে বার হওয়া সম্পর্ককে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ করে।

২. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস–অনেক সময় আমরা ধরে নিই যে, সঙ্গী জানেন আমরা তাঁকে মূল্য দিই। কিন্তু ‘ধন্যবাদ’, ‘তুমি পাশে আছো’-র মতো ছোট ছোট কথা সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাঁদের সম্পর্ক অনেক বেশি মসৃণ।

৩. একে অন্যকে সম্মান করুন–ঝগড়া বা মতের অমিল যে-কোনও সম্পর্কেই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন আলোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। মতবিরোধের সময়ও একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রাখুন।

সম্পর্কের বয়স যতই হোক, যোগাযোগ, সম্মান এবং পারস্পরিক যত্ন থাকলে একঘেয়েমি বা দূরত্ব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।তাই সম্পর্ক সাত বছর, দশ বছর বা তারও বেশি পুরোনো হোক না কেন, ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে। বড় কোনও পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে ছোট ছোট পজিটিভ অভ্যাসই দাম্পত্যকে সুখি করে তোলে।

(Feed Source: news18.com)