Success Story: ইচ্ছে থাকলেই উপায়! ১৫ দিনে ভাঙে বিয়ে, UPSC-তেও তিনবার ব্যর্থ! হার না মেনে IRS অফিসার হতে হয় কীভাবে শেখালেন কোমল

Success Story: ইচ্ছে থাকলেই উপায়! ১৫ দিনে ভাঙে বিয়ে, UPSC-তেও তিনবার ব্যর্থ! হার না মেনে IRS অফিসার হতে হয় কীভাবে শেখালেন কোমল

Success Story: তিন ভাষায় পড়াশোনা, তিনবার ব্যর্থতার পর ইউপিএসসিতে সাফল্য—অনুপ্রেরণার নাম কোমল গণাত্রা।

দাম্পত্য জীবনের ভাঙন, সামাজিক কটাক্ষ, আর্থিক ও মানসিক লড়াই– সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ইউপিএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে আইআরএস অফিসার হন কোমল গণাত্রা। তাঁর জীবনকাহিনি আজ বহু মানুষের, বিশেষ করে তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

১৯৮২ সালে গুজরাতের আমরেলি জেলার সাভারকুন্ডলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোমল গণাত্রা। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছিল, কিন্তু সেই আঘাত তাঁকে ভেঙে দেয়নি। বরং আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নিজের লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যান তিনি।

কোমলের শিক্ষাজীবনও বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি গুজরাটি মাধ্যম থেকে স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। গুজরাতি সাহিত্যে তিনি ছিলেন টপার। রাজকোট গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পাশাপাশি ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ ডিগ্রি এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং সার্টিফিকেটও লাভ করেন।

২০০৮ সালে ২৬ বছর বয়সে নিউ জিল্যান্ডপ্রবাসী শৈলেশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই পণের দাবিতে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। এর কিছুদিন পরই শৈলেশ নিউ জিল্যান্ডে ফিরে যান এবং কোমলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাধ্য হয়েইউপিএসসি পরীক্ষায় পরপর তিনবার ব্যর্থ হন কোমল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০১২ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৫৯১তম স্থান অর্জন করে আইআরএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। প্রস্তুতির সময় তিনি একদিনও ছুটি নেননি। এমনকি স্কুলের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অতিরিক্ত সময় পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতেন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্যের পর কোমল জীবনে নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি গুজরাত হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহিত শর্মাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার নাম তাক্ষভী। সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে কীভাবে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিকেও জয় করা যায়, কোমল গণাত্রার জীবন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বাপের বাড়িতে ফিরে এলেও সমাজ ও আত্মীয়দের নানা কটূক্তি তাঁকে সেখান থেকেও দূরে সরে যেতে বাধ্য করে। সেই সময়ে তিনি সরকারি স্কুলশিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।

বিয়ের আগেই কোমল গুজরাত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের কারণে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে না পারায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনের সংকটের পর তিনি বাড়ি ছেড়ে এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সেখানে না ছিল ইন্টারনেটের সুবিধা, না ইংরেজি সংবাদপত্রের সহজলভ্যতা। তবুও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষকতাও করতেন।

(Feed Source: news18.com)