)
Rajasthan Crime: নাবালকের দাবি, এই লাগাতার মারধর ও অত্যাচারের কারণেই নিজের বাবার প্রতি তার মনে তীব্র ক্ষোভ, রাগ ও ঘৃণার জন্ম নেয়। সে প্রায়ই তার মাকে বলত যে, সে একদিন এই বাবাকে মেরেই ফেলবে। পুলিস জানতে পেরেছে, ছেলেটি হঠাৎ করে রেগে গিয়ে এই খুন করেনি। বরং সে অনেক আগে থেকেই বাবাকে খুন করার ছক কষেছিল। এই খুনের উদ্দেশ্যেই সে অনলাইনে একটি ধারাল ছুরি অর্ডার দিয়ে আনিয়ে রেখেছিল।
খুনের নেপথ্যের কারণ:
আজমেরের পুলিস সুপার হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, রাম সিং চৌধুরীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই পরিবারে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। প্রথম পক্ষের সন্তানরা মনে করত যে তাদের মায়ের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। আজমের থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি নিরিবিলি খামারবাড়িতে রাম সিং তাঁর দুই স্ত্রী, মা এবং ভাগ্নিকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। পুলিসের দাবি, নাবালক ছেলেটি গত ৫ মাস ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করছিল। সে নিয়মিত মোবাইলে ক্রাইম ওয়েব সিরিজ দেখত এবং অনলাইন গেম খেলত। সেখান থেকেই সে অপরাধের প্রমাণ লোপাটের উপায়গুলি শিখেছিল।
সেই রাতের নৃশংসতা:
ঘটনার রাতে রাম সিং ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সুরজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর ৪টে পর্যন্ত মোবাইলে গেম খেলার পর, নাবালক ছেলেটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার বাবার ঘরে ঢোকে এবং ঘুমন্ত রাম সিংয়ের কানের নিচে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই রাম সিংয়ের মৃত্যু হয়। তবে বাবার ওপর হামলার সময় দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান জেগে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে রাম সিংয়ের মা পুসি দেবী এবং ভাগ্নি মহিমাও সেই ঘরে চলে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাবালকের মা (রাম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী) এবং পিসি (রাম সিংয়ের বোন) ঘরে ঢুকে নাবালককে সাহায্য করে এবং বাকি তিনজনকে খুন করে।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও প্রমাণ লোপাট:
তদন্তে জানা গিয়েছে, রাম সিংয়ের ভাগ্নি মহিমা পরিবারের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং জমিজমার দেখাশোনা করতেন। প্রথম পক্ষের পরিবারের ভয় ছিল, মহিমা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান মিলে রাম সিংয়ের সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিতে পারেন। খুনের পর অপরাধ ঢাকতে সমস্ত মৃতদেহ গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে নির্জন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; নাবালকের অতিরিক্ত ঠান্ডা মাথার আচরণ এবং পুলিসের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে শেষ পর্যন্ত পুরো রহস্যের জট খুলে যায়।
(Feed Source: zeenews.com)
