)
Twisha Sharma: এদিকে তিশার পরিবারের দাবি, গর্ভধারণের পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক চাপ বাড়তে শুরু করে। সেই সময় থেকে মনোরোগের ওষুধ দেওয়া হত। তাঁদের আরও দাবি, কয়েক মাসে প্রায় ১৫ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল মেয়ের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে তিশার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা। কিন্তু জেরায় মারাত্মক দাবি করলেন তিশার স্বামী সমর্থ সিং। বাইপোলার ডিসঅর্ডার, গর্ভপাত চেয়েছিল তিশাই- এ ধরনের বিস্ফোরক দাবি করতে থাকে সে। তিন দিন ধরে চলা প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে সমর্থের দেওয়া বয়ানের সঙ্গে তিশার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের আকাশ-পাতাল তফাত পাওয়া গিয়েছে।
তিনি দাবি করেছেন, তিশার গর্ভপাতের পরই তাঁদের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। শুধু তা-ই, স্ত্রীকে নাকি তিনি এককালীন ৭ লক্ষ টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কী কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি দিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। সমর্থ দাবি করেছে, সে বাবা হতে চেয়েছিল, কিন্তু ত্বিষা সন্তান চাননি। তার কথায়, চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয়েছিল এবং দু’জন একসঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন।
জেরায় সমর্থ দাবি করেছেন, বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস তিশার সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তিশা যখন জানতে পারেন তিনি গর্ভবতী, তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্ক অন্যদিকে মোড় নেয়। তিশা নাকি ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছিলেন। কখনও আচরণ স্বাভাবিক থাকত, কখনও হঠাৎ বদলে যেত। পরে তাঁকে মনোবিদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে নাকি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার’ ধরা পড়ে। কিন্তু গড়মিল কোথায়?
১. গর্ভপাত নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ও বিস্ফোরক চ্যাট
জিজ্ঞাসাবাদে সমর্থ দাবি করেছেন, তিনি এবং তাঁর মা দুজনেই ঘরে নতুন অতিথি চেয়েছিলেন। কিন্তু তিশাই নাকি মা হতে চাননি এবং তাঁর জোরাজুরিতেই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয়। তবে তিশার মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যে প্রমাণ করছে। চ্যাট থেকে জানা গেছে, সমর্থ নিজেই তিশার গর্ভবতী হওয়া নিয়ে মনে চরম সন্দেহ পুষে রেখেছিলেন, এমনকি সন্তানের পিতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিশার পরিবারের অভিযোগ, এই গর্ভপাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অশান্তি শুরু হওয়ার পরই টুইশাকে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া শুরু হয় এবং এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় তাঁর ওজন প্রায় ১৫ কেজি কমে গিয়েছিল।
২. মানসিক রোগ ও ঘুমের ওষুধকে কি ‘অস্ত্র’ করা হয়েছিল?
সমর্থ পুলিসকে জানিয়েছেন যে, তিশা ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ এবং ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিজঅর্ডার’-এর মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর আচরণে নাকি হঠাৎ হঠাৎ অদ্ভুত পরিবর্তন আসত, তাই ডাক্তারের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছিল এবং মানসিক চাপ কমাতে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হত। এখানেই সিবিআই-এর খটকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হল যে একজন নতুন বউকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে হল? এই চিকিৎসার কথা তিশার বাপের বাড়ির লোক জানতে কি না, নাকি তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে টুইশাকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হত—তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
৩. চ্যাট ডিলিট করা ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের চেষ্টা
মামলার অন্যতম সন্দেহজনক দিক হলো, সমর্থ তাঁর মোবাইল থেকে তিশা এবং তাঁর পরিবারের সাথে হওয়া সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট করে দিয়েছেন। পুলিসের একটি টেকনিক্যাল টিম এখন সেই মুছে ফেলা মেসেজগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছে। তিশা মৃত্যুর আগে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁকে জোর করে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, এমনকি বাড়ি থেকে অনলাইনে কাজ করার স্বাধীনতাটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও সমর্থের দাবি, তিশা নিজের ইচ্ছায় এবং তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়াতেই কাজ ছেড়েছিলেন।
৪. ঘটনার দিন এবং শাশুড়ির ভূমিকা
সমর্থের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিনও সবকিছু একদম স্বাভাবিক ছিল। তাঁরা একসঙ্গে জিমে যান, খাওয়া-দাওয়া করেন এবং রাতে হাঁটতেও বেরোন। তবে পুলিস শুধু সমর্থের মুখের কথায় ভরসা না করে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে সত্যিটা জানার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, তিশার শাশুড়ি তথা প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা সিং-এর ভূমিকাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। সমর্থের দাবি, তাঁর মা তাঁদের দুজনের ঝগড়া মেটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু তিশার মেসেজ ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শাশুড়ি সবসময় ছেলের অন্যায়কেই প্রশ্রয় দিতেন এবং তিশাকে দিনের পর দিন অসহায় করে তুলেছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
