
ছবির নির্মাতাদের যে নোটিস ধরিয়েছেন সলমন, তাতে ছবির মুক্তি, প্রচারে স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ভারত এস শ্রীনাথ ‘কালা হিরণ’ ছবির পরিচালক। ছবিটি প্রযোজনা করছেন অমিত জানি। সলমনের আইনজীবী জানিয়েছেন, কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। তাই ‘কালা হিরণ’ ছবিটি আসলে সলমনে কালিমালিপ্ত করতেই তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সলমনের আইনজীবীর দাবি, মামলা যেখানে বিচারাধীন, সেখানে ওই ঘটনা নিয়ে ছবি তৈরি হলে সরাসরি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে, সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়ার উপর প্রভাব পড়বে, বিচারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। (Kala Hiran Legal Notice)
‘কালা হিরণ’ ছবির যে পোস্টার সামনে এসেছে, তাতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতাকে শুধুমাত্র সলমনের মতোই দেখাচ্ছে না, সলমনের হাতে থাকা ব্রেসলেটটিও রয়েছে তাঁর হাতে। সলমনের মতো করেই ওই অভিনেতাকে সাজানো হয়েছে বলে দাবি অনুরাগীদের। সলমনের আইনজীবী জানিয়েছেন, সলমনের সম্মতি গ্রহণ করেননি ছবির নির্মাতারা। তাই ছবির মুক্তি এবং সেই সংক্রান্ত সব কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে অভিনেতার কাছে।
নোটিসে ‘কালা হিরণ’ ছবির নির্মাতাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করলে সলমন দেওয়ানি এবং ফৌজদারি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবেন। ওই নোটিস সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন প্রযোজক অমিত। তাঁর দাবি, ছবির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জনকে হুমকি দিচ্ছেন সলমন। অতি সম্প্রতিই ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’ ছবির পোস্টারটি প্রকাশ করা হয়। আর তাতেই বিতর্ক চরমে ওঠে। ২০ জুন ছবিটির টিজ়ার মুক্তি পাওয়ার কথা।
এর আগে, ‘উদয়পুর ফাইলস’ ছবিটিও তৈরি করেছিলেন পরিচালক শ্রীনাথ এবং প্রযোজক অমিত। রাজস্থানের উদয়পুরে হিন্দু দর্জি কানহাইয়ালাল সাহুকে হত্যার ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘উদয়পুর ফাইলস’। বিজেপি-র প্রাক্তনমুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করেছিলেন কানহাইয়ালাল। সেই ছবি নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোয় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ উঠেছিল ছবিটির বিরুদ্ধে।
‘কালা হিরণ’ ছবিটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা নিয়ে তৈরি। ১৯৯৮ সালে জোধপুরে ‘হম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং করছিলেন সলমন। সেখানে দু’-দু’টি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সলমন ওই মামলায় মূল অভিযুক্ত সলমন। অভিযুক্ত ছিলেন অভিনেতা সেফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, তব্বু, নীলম এবং দুশ্যন্ত সিংহ নামের স্থানীয় একজনও। জোধপুর জেলা আদালত সলমনকে সাজা শোনালেও, বাকিদের মুক্তি দেয়। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল পাঁচ বছরের সাজা শোনানো হয় সলমনকে। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০২২ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট মামলাটির স্থানান্তরণে অনুমতি দেয়। অর্থাৎ ওই মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টেই।
(Feed Source: abplive.com)
