
আমেরিকার সেনার দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ঠেকানো গিয়েছে। আত্মরক্ষার্থে ইরানের কাশম দ্বীপে হামলা চালাতে হয়েছে আমেরিকাকে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘প্রতিবেশী দেশগুলিকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। তবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হয়নি একটিও।’ (Iran-Us Conflict)
Iran will not let the US sit with peace.
US will have to suffer the consequences pic.twitter.com/v70SXidfgA— IRAN Media ☫ (@IRMedia_24) June 2, 2026
আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, কুয়েতকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বাহরাইনকে লক্ষ্য করে যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, আমেরিকা এবং বাহরাইনের বায়ুসেনা মিলে সঙ্গে সঙ্গেই তা
ঠেকিয়ে দেয়।
কুয়েতের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উড়ে আসছে বলে গোড়াতেই ধরা সম্ভব হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পর পর তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর। তবে কুয়েত সেনার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন গুঁড়িয়ে দেওয়ার শব্দই শুনেছেন সকলে।
Kuwait under attack of ballistic missiles by the Islamic Republic of Iran as the IRGC and US clash in Hormuz pic.twitter.com/L1Mm3GVLIU
— Emily Schrader – אמילי שריידר امیلی شریدر (@emilykschrader) June 2, 2026
পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর পর কুয়েত সেনার তরফে নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়। কোনও রকম ধ্বংসাবশেষ, শার্পনেল বা অচেনা বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে কাছে যেতে নিষেধ করা হয় সকলকে। সেগুলি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের বিপজ্জনক অংশ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আব্দুলাজিজ আল-ওতাইবি। হটলাইন নম্বর ১১২-তে ফোন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, গুজব এড়িয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলতে হবে বলেও জানানো হয়েছে দেশবাসীকে।
500 missiles have been launched at Iran
Now the whole world will witness Us revenge. pic.twitter.com/IFnuAkU5qu
— America Army (@AmericaSpoof) June 2, 2026
অন্য দিকে, ইরানের সরকারি চ্যানেল IRIB-র দাবি অনুযায়ী, আমেরিকাই প্রথম শত্রুর মতো আচরণ করে। পারস্য উপসাগর, হরমুজ় প্রণালী এবং কাশম দ্বীপে হামলা চালায় তারা। এর পরই কুয়েত এবং বাহরাইনে আমেরিকার ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হয়। কুয়েতে আমেরিকার ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। কী অবস্থা সেখানে এখনও স্পষ্ট হয়নি। একটি ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়েছে, যাতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে উড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। সেটি বাহরাইনের আকাশ হয়ে ছুটে যায় বলে দাবি।
IRIB-র দাবি, ইরানের একটি টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্টেনা এবং অয়েল ট্যাঙ্কারকে নিশানা করে আমেরিকা। জবাবে আমেরিকার ফিফথ ফ্লিট এবং একটি বায়ুসেনা ঘাঁটিকে নিশানা করা হয়েছে। ইরানের সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, “আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড যদিও পাল্টা বিবৃতিতে ইরানের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। বাহরাইনে ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর এবং সেখানে তাদের বায়ুসেনা ঘাঁটি অক্ষত রয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল কম্যান্ড। যদিও বাহরাইনে ঘন ঘন সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর। দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে আর্জি জানিয়েছে। শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এই হামলা, পাল্টা হামলায় অশনি সঙ্কেত দেখছে গোটা বিশ্ব। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পৃথিবীর সর্বত্রই তার প্রভাব অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা।
(Feed Source: abplive.com)
