)
Madhya Pradesh Crime: ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও খুন। প্রমাণ লোপাট করতে অভিযুক্তরা নাবালিকার মৃতদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় রামু গুরজর-সহ তিন অভিযুক্তকে পুলিস ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৫ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ। এরপরও শান্তি হয়নি। নির্মমভাবে মেরেই ফেলল বাচ্চা মেয়েটিকে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তরা নিজেদের চরম অপরাধ ঢাকতে নির্যাতিতার দেহ পেট্রল দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করে। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র। পুলিস গোয়ালিয়রের গুপ্তেশ্বর পাহাড় এলাকা থেকে নির্যাতিতার ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করে।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ভিন্দ জেলার বাসিন্দা এবং নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা দোষীদের ফাঁসির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ওই নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করার সময় ‘রামু গুরজর’ নামে এক যুবকের ফোন নম্বর পান। কিন্তু নাবালিকার কোনও হদিস না মেলায় তাঁরা শেষ পর্যন্ত মাউ (Mau) থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, মূল অভিযুক্ত রামু গুরজর নাবালিকাকে ফুসলিয়ে ভিন্দ থেকে গোয়ালিয়রে নিয়ে আসে। গোয়ালিয়রের গুপ্তেশ্বর পাহাড়ের নবগ্রহ মন্দিরের কাছে একটি নির্জন জায়গায় রামু এবং তার দুই সহযোগী- অরুণ কুশওয়াহা ও গৌরব কুশওয়াহা একে একে মিলে ওই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর গত ২৯ মে পরিচয় ও প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে মৃতদেহে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিস দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মূল অভিযুক্ত রামু গুরজরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। রামুর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিস গোয়ালিয়র থেকে তার বাকি দুই সহযোগী অরুণ ও গৌরবকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা পুলিসের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর নাবালিকার ঝলসানো দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দোষীদের অবিলম্বে ফাঁসি এবং কঠোরতম শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে পুলিস সবরকম আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
