)
Rajesh Exports Rajesh Mehta SEBI Case: তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজেশ এক্সপোর্টস এবং রাজেশ মেহেতার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ‘সেবি’। কেলেঙ্কারির অঙ্ক দেখে মাথা ঘুরে গিয়েছে সকলের! কেননা, অনেক দেশের তো বার্ষিক অর্থনৈতির উৎপাদনও ওই অঙ্কের ধারেকাছে থাকে না!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দালাল স্ট্রিট থেকে এবার বড় ধরনের দুর্নীতির খবর সামনে। রাজেশ এক্সপোর্টস (Rajesh Exports)-এর বিরুদ্ধে এবার ১৫ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার এক কেলেঙ্কারির (alleged massive financial misrepresentation) অভিযোগ উঠল! রাজেশ এক্সপোর্টস (Rajesh Exports) এবং সংস্থার প্রোমোটার তথা চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতাকে (promoter-chairman Rajesh Mehta) আপাতত নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’ (Exchange Board of India) তথা ‘সেবি’ (SEBI)!
শেয়ারে পতন!
রাজেশ এক্সপোর্টসের সদর দফতর বেঙ্গালুরুতে। বিশ্বমানের সোনা এবং রত্ন বিক্রেতা সংস্থা হিসেবে বাজারে জায়গা করে নিয়েছিল সংস্থাটি। গতকাল, ৩ জুন তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছে SEBI। আর তারপরই, আজ, বৃহস্পতিবার বাজারে তাদের শেয়ারের দরে ৫ শতাংশ পতন! এদিকে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজেশ এক্সপোর্টস এবং রাজেশ মেহেতার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সেবি। কেলেঙ্কারির অঙ্ক দেখে মাথা ঘুরে গিয়েছে সকলের! কেননা, অনেক দেশের তো বার্ষিক অর্থনৈতির উৎপাদনও ওই অঙ্কের ধারেকাছে থাকে না!
সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ মারাত্মক। সেবি জানিয়েছে, টানা পাঁচ বছর ধরে নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত ভুল বা বিকৃত তথ্য় পেশ করেছে রাজেশ এক্সপোর্ট। অভিযোগ, নিজেদের সহযোগী সংস্থাগুলির দ্বারা তাদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাস্তবের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দেখিয়েছিল তারা! সেখানে তাদের ঘোষিত আয়ের হিসেব ছিল ১৫৮.৩ বিলিয়ন ডলার বা ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা! বিষয়টি সামনে আসতেই দালাল স্ট্রিটে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রদত্ত তথ্য, তাদের উপর তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
নথিভুক্ত সংস্থার বিরুদ্ধেই তদন্ত!
বিষয়টি কিন্তু আজই সহসা উঠে এল, এমন নয়। অভিযোগ ছিলই। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ প্রথমবার শেয়ারহোল্ডারদের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছিল SEBI-র কাছে। জানানো হয়েছিল, দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে অনেকের পাওনা বাকি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে SEBI। শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত।
কী আবিষ্কার করে সেবি?
SEBI-র তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সময়-পর্বে রাজেশ এক্সপোর্টসের প্রায় সম্পূর্ণ আয়ই বিদেশের সহযোগী সংস্থাগুলির কাছ থেকে আসে– মোট ঘোষিত বিক্রির ৯৭-৯৯ শতাংশই। বিভিন্ন ভর্তুকিপ্রাপ্ত সংস্থার নথি খতিয়ে দেখেও বিরাট অসামঞ্জস্য এবং গরমিল ধরা পড়ে সেবির চোখে। আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পান তদন্তকারীরা। আফ্রিকার একটি স্বর্ণখনিতে ১০৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেই বিনিয়োগের সপক্ষে কোনও প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিও দিতে পারেনি তারা।
১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার গরমিল
SEBI জানায়, সামগ্রিক আয়ের যে হিসেব রাজেশ এক্সপোর্টসের তরফে তুলে ধরা হয়েছিল, তা সহযোগী সংস্থাগুলির আয়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের আয়ের হিসেবে ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার সামগ্রিক গরমিল ধরা পড়ে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে, কর্পোরেট সেক্টরে আয়ের তথ্যবিকৃতি নিয়ে যত মামলা হয়েছে, তার মধ্য়ে এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ঘটনা হিসেহে গণ্য হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
