আমায় নিয়ে ধারণা বদলাচ্ছে, সুযোগ পেলে সেরা অভিনয়টাই করব: শতাক্ষী নন্দী

আমায় নিয়ে ধারণা বদলাচ্ছে, সুযোগ পেলে সেরা অভিনয়টাই করব: শতাক্ষী নন্দী

 

কলকাতা: ‘নধরের ভেলা’-র পরে, শুভেচ্ছাবার্তা, প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। পর্দায় ‘রূপা’ যে এইভাবে দর্শকদের মনে ছাপ ফেলতে পারে, তা হয়তো এতদিন ভাবতেই পারেননি টলিউডের অনেক পরিচালক, প্রযোজকেরাই। আর এরমধ্যেই মুক্তি পাচ্ছে, তাঁর নতুন ছবি, ‘পিঞ্জর’। সেই ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। এই ছবির অফার আসা থেকে শুরু করে, টলিউডে কাজ নিয়ে তাঁর ভাবনা.. এবিপি লাইভ বাংলার  (ABP Live Bangla) সঙ্গে মন খুলে কথা বললেন, অভিনেত্রী শতাক্ষী নন্দী (Satakshi Nandy)।

‘পিঞ্জর’-এ শতাক্ষীকে দেখা যাবে পারমিতার চরিত্রে। এই ছবির অফারও তাঁর কাছে এসেছিল খুব অদ্ভুতভাবেই। শতাক্ষী বলছেন, ‘সালটা সম্ভবত, ২০২৩। সেই সময়ে আমি মুম্বইতে একটা কাজের জন্য গিয়েছিলাম। ১০-১৫ দিনের কাজ ছিল, কিন্তু তার মধ্যেই ঘাড়ে চোট পাই আমি। হাঁটাচলাও করতে পারতাম না, শুয়ে থাকতে হত সারাদিন। ভীষণ অস্থির লাগত। সেই সময়েই আমায় রুদ্রদা (রুদ্রজিৎ রায়) আমায় ছবিটি অফার করে। চিত্রনাট্য পড়া ছাড়া, সত্যিই তখন আর কোনও কাজ করতে পারছিলাম না। শুয়ে শুয়ে চিত্রনাট্যটা পড়ে, ২ দিনের মাথাতেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছিলাম। যখন অসুস্থ হয়ে মুম্বইতে রয়েছি, কলকাতা ফিরতে পারছি না, কাজ করতে পারছি না.. প্রচন্ড চিন্তা হচ্ছে, সেই সময়ে ‘পিঞ্জর’ আমার কাছে তাজা দমকা হাওয়ার মতোই মনে হয়েছিল।’

পারমিতার চরিত্রটার ভিতর কী বিশেষত্ব ছিল, যা শতাক্ষীকে আকর্ষণ করেছিল? অভিনেত্রী বলছেন, ‘পারমিতা একজন বিধবা। গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা, ছোটদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব তার ওপর। অল্পবয়সে বিধবা পারমিতা, নিজেকেই কিছু গন্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলেছে। খুব সাদামাটা জীবনযাপন পারমিতার, কিন্তু সে তার সখ, ইচ্ছাগুলোকে যেন দমন করে রেখেছে। গ্রামেরই এক ব্যক্তি, তারক.. তার ওপরে দুর্বলতা জন্মায় এই পারমিতার। তাকে কেন্দ্র করেই যেন বদলে যেতে চায় পারমিতার জীবন। যে ইচ্ছাগুলো এতদিন ধরে ও চাপা রেখেছিল.. সেগুলোই যেন বেরিয়ে আসতে চায়। তবে আমার চরিত্রটা এই কারণেই খুব ভাল লেগেছিল যে, চড়া সুরে বাঁধা নয় গোটা বিষয়টা। প্রেম থেকে শুরু করে এক বিধবার জীবন, সবটাই খুব সূক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিনয় করছেন শতাক্ষী, কখনও মনে হয়েছে, আরও ভাল চরিত্রে সুযোগ পেতে পারতেন? অভিনেত্রী বলছেন, ‘আমি যখন টলিউডে পা রেখেছি, বিশ্বাস করেছি অভিনয় শিক্ষাটায় যেন কোনও খুঁত না থাকে। ১৭ বছর বয়স থেকে কাজ করছি। শুধু অভিনয় নয়, নাচ বা অন্যান্য সমস্ত বিষয়ই আমার কাছে পারফর্মম্যান্স। সেখানে সবসময় নিজেকে ঘষামাজা করার চেষ্টা করেছি। আগে একঘেয়ে চরিত্র পেলে খারাপ লাগত। এখন মনে হয়, যেটা আমার হাতে নেই, সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। নিজের শিল্পের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করি সবসময়।’

‘নধরের ভেলা’-তে শতাক্ষী ছিলেন চমক, এই ছবিতে কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে বিশ্বাস করেন? হাসতে হাসতে অভিনেত্রী বললেন, ‘ছবিটার যা প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, সেটা ভোলবার নয়। এমন একটা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকা লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স। ছবিটা মুক্তির পরে তেমন ছকভাঙা কোনও চরিত্র এখনও পর্যন্ত না পেলেও, কথা বলতে গিয়ে বুঝতে পারছি আমায় নিয়ে পরিচালক, প্রযোজকদের ধারণা বদলাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, যদি বিভিন্ন রকমের চরিত্রে অভিনয়ের করার সুযোগ পাই.. আমি সেরাটাই দেব।’

(Feed Source: abplive.com)