
গুজরাতের সুরাতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি পাঁচটি দেশ সফরের সময়ও বাংলার নির্বাচনী ফলাফল আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
মোদি বলেন, “আমাদের সরকার দেশের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সেই কারণেই দেশের মানুষ বিজেপি এবং তার উন্নয়নমূলক উদ্যোগের উপর আস্থা রাখছেন এবং বারবার আমাদের জনাদেশ দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি আমি পাঁচটি দেশ সফর করেছি। সেখানে গিয়েও বাংলার কথাই সবচেয়ে বেশি শুনেছি। সবাই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং পুদুচেরির নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সফরকালে শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর একাধিক আন্তর্জাতিক নেতা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে একে “ঐতিহাসিক ও নির্ণায়ক জয়” বলে উল্লেখ করেন। অন্য দিকে, নরওয়ের প্রাক্তন কূটনীতিক এরিক সোলহাইমও পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির সাফল্যের প্রশংসা করেন। নরওয়ে সফরকালে তিনি মন্তব্য করেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রকে সম্মান জানানোর সময় এসেছে পশ্চিমা বিশ্বের।”
সোলহাইম পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের একাংশের সমালোচনা করে বলেন, অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয় অথবা তাঁর নীতিকে ‘হিন্দু চরমপন্থা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তাঁর কথায়, “ভারত শুধু বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রই নয়, বিষয়বস্তুর দিক থেকেও এটি অন্যতম শক্তিশালী গণতন্ত্র। কারণ এটি পশ্চিমা মডেলের অনুকরণ নয়, বরং ভারতের নিজস্ব ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।”
(Feed Source: news18.com)
