‘ভয়ে কাঁপতে লাগলাম’, এ’কথা তো কতবার বলেছেন, কখনও ভেবেছেন, কেন ভয়ে হাত-পা কাঁপে?

‘ভয়ে কাঁপতে লাগলাম’, এ’কথা তো কতবার বলেছেন, কখনও ভেবেছেন, কেন ভয়ে হাত-পা কাঁপে?

ভয় বা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ উদ্দীপ্ত হয়। অংশটির নাম অ্যামিগডালা। অজানা আশঙ্কায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ করে এই অ্যামিগডালা। এটা একধরনের হরমোন। এর একটা ডাকনামও আছে ইংরেজিতে—ফাইট অর ফ্লাইট হরমোন। অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির কম্পন বাড়তে থাকে। একসময় তা আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বাইরে থেকে দেখলে তখন মনে হয় গোটা শরীর কাঁপছে।

ভয়ে বা আতঙ্কে আমাদের সবার হাত-পা কাঁপে! কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন এমনটা হয়? বিজ্ঞান বলছে, ভয়ের অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কের এই অংশ আমাদের আবেগ, বিশেষ করে ভয় ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যামিগডালা অংশ ভয় শনাক্ত করলেই মস্তিষ্কের অন্য অংশে সংকেত পাঠায়।

এই সংকেতের ফলে আমাদের অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড থেকে দ্রুতগতিতে অ্যাড্রিনালিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। অ্যাড্রিনালিনকে ‘এমার্জেন্সি হরমোন’ বলে। এটি শরীরকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায় যাতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে আমরা দ্রুত পালাতে পারি অথবা প্রতিরোধ করতে পারি।

অ্যাড্রিনালিনের প্রভাবে আমাদের হৃৎপিণ্ডের গতি দ্রুত বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ বাড়ে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, বিশেষত পেশিগুলোতে।

বেশি রক্ত প্রবাহ এবং তীব্র উত্তেজনার কারণে আমাদের পেশিগুলো অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ফলে হাত-পা কাঁপতে থাকে। এই কাঁপুনির মাধ্যমে শরীর নিজেকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করে।

হাত-পা কাঁপা মূলত শরীরের ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রতিক্রিয়ার অংশ, যা আমাদের শারীরিকভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে। অ্যাড্রেনালিন সরাসরি পেশির রিসেপ্টর বা সংবেদী কোষের ওপর কাজ করে। এ কারণে পেশির তন্তুগুলোর সংকোচন-প্রসারণ দ্রুততর হয়। দেহ প্রস্তুত হয়ে ওঠে ভয় বা উদ্বেগ মোকাবেলার জন্য।

ভয় পেলে শরীরের কাঁপুনি খুবই স্বাভাবিক, তবে কিছু কৌশল মানলে কাঁপিনি কমানো সম্ভব। গভীরভাবে দম নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন, শরীরকে শান্ত করতে পারবেন। ভয় পেলে মনে সাহস জোগাতে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারেন। পেশি ধীরে ধীরে শিথিল করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে পারেন।

১-৪ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে গুনতে যতটা সময় লাগে, ততটা সময় ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া, সমপরিমাণ সময় শ্বাস ধরে রাখা এবং একই পরিমাণ সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়লে সেটাকে ‘বড়’ করে শ্বাস নেওয়া বলা হয়। এতে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে। মস্তিষ্কও বেশি অক্সিজেন পায়। ফলে অ্যাড্রেনালিনের প্রবাহ কিছুটা কমে। তা ছাড়া, শারীরিক ব্যায়াম কিংবা যোগব্যায়ামের মতো অভ্যাস বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখে।

(Feed Source: news18.com)