)
INDIA’S NEW T20I CAPTAIN EXPLAINED: বিশ্বকাপ জেতানোর ৯০ দিনের ব্যবধানেই সব হারালেন সূর্যকুমার যাদব! অমোচনীয় পরিণতির অমোঘ সত্যতায় সিংহাসনে শ্রেয়স আইয়ার বসেছেন…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জল্পনাই সত্যি হল। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটের (Team India News) অন্দরমহলে কান পাতলে একটা কথাই শোনা যাচ্ছিল। আর অবশেষে সেটাই হয়ে গেল। নেতৃত্ব হারানোর সঙ্গেই টি-২০ দল থেকেও মুছে ফেলা হল বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে (Suryakumar Yadav)। ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর তিন মাসের মধ্যেই সব শেষ দেশের ৩৬০ ডিগ্রি ক্রিকেটারের। দেশের নতুন টি-২০ আই নেতা হলেন শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer has become team India’s new T20I captain)। গত ৮ মার্চ ভারতকে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ছিলেন সূর্য। আর ৬ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি সিংহাসন খোয়ালেন ও সাম্রাজ্যহারা হলেন! ৯০ দিনের ব্যবধানে ‘সর্বহারা’ সূর্যকুমার! অমোচনীয় পরিণতির অমোঘ সত্যতায় সিংহাসনে বসলেন শ্রেয়স।
দেখতে গেলে বিশ্বকাপে সূর্য খেলতে যাওয়ার আগেই তাঁর ললাট লিখন হয়ে গিয়েছিল। কাপ জেতা-হারায় কোনও প্রভাবই পড়ত না। আগামীর কথা ভেবেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একজন নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের খোঁজে ছিল। মূল লক্ষ্যই ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স। দীর্ঘ ১২৮ বছর পর অলিম্পিক্সে ক্রিকেট ফিরছে। বয়স এবং ক্রমশ নিম্নমুখী পারফরম্যান্সই সূর্যর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল! সূর্যর বয়স এখন ৩৫। দু’বছর পর ৩৭ হবে। সেখানে শ্রেয়স মাত্র ৩১। সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যর ফর্ম একেবারেই প্রত্যাশামাফিক ছিল না। আর বিষয়টি বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সব মিলিয়ে সূর্য ১১৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩৬.৩৫ গড়ে ও ১৬২.৯৪ স্ট্রাইক রেটে মোট ৩২৭২ রান সংগ্রহ করেছেন। তবে অতি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পরিসংখ্যানের অবনতি ঘটেছে। গত ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সূর্য ৩৫ ম্যাচে মাত্র ২৬-এর গড়ে ৭০২ রান করেছেন। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত সূর্য ১৮টি টি-টোয়েন্টিআই ম্যাচে ২৬.৮১- গড়ে ৪২৯ রান করেছিলেন।
সেই সূর্য বদলেই গিয়েছে আগেই
সূর্যর নেতৃত্বে ভারত ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ এবং ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ঠিকই। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২৩ সালের এশিয়া কাপজয়ী দলের অংশও ছিলেন। সূর্য একসময় বোলারদের ত্রাস ছিলেন। তাঁর ৩৬০ ডিগ্রি ক্রিকেটের বোলাররা বুঝে উঠতেই পারত না যে, কোথায় বল করলে মিলবে পরিত্রাণ অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যাটারই ছিলেন সূর্য। তবে সেই সময়টা ছিল অক্টোবর ২০২৪ সালের আগের কথা। ১২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি অর্ধ-শতক হাঁকানোর পর তাঁর পরবর্তী ৫০-এর বেশি রানের ইনিংস আসে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই একই সিরিজে তিনি আরও দুটি অর্ধ-শতক করেছিলেন। আর এটি ছিল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের শেষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং যাদবের এই দুর্দান্ত ফর্ম দলের মনে আশার সঞ্চার করেছিল। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস দিয়ে যাদব অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু এরপর ভারত বিশ্বকাপ জিতলেও তিনি আর সেই একই মানের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি।
এবার শ্রেয়সের কথায় আসা যাক
মুম্বইয়ের ক্রিকেটার শ্রেয়স বিগত প্রায় আড়াই বছর টি-২০ আই খেলেননি ঠিকই, তবে গতকয়েক বছর আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের হয়ে ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন দলের নেতা। আইপিএলে শ্রেয়স প্রথমবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে (বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালস)। গৌতম গম্ভীরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দল ২০২০ সালে আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল। তবে হারতে হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। ২০২৪ সালে আইয়ারের নেতৃত্বেই কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের তৃতীয় শিরোপা জেতে। যা ছিল ১০ বছর পর তাদের প্রথম ট্রফি। তবে সেই সাফল্যের পরেও কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দেয়। এরপর পঞ্জাবে নতুন ভাবে শুরু করার সুযোগ পান আইয়ার। ২০২৫ আইপিএলে তিনি ১৭ ম্যাচে ৬০৪ রান করেন এবং দলকে ফাইনালে তোলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হারতে হয়েছিল। ২০২৬ আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ৪৯৮ রান করেছিলেন।
আগরকরও মোহিত শ্রেয়স আইয়ারে
শ্রেয়সকে অধিনায়ক নিয়োগ করার প্রসঙ্গে জাতীয় দলের নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর বলেন, ‘আমরা দেখেছি গত কয়েক বছরে শ্রেয়স বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দিয়ে কী করেছে। একবার জিতেছে এবং আরেকবার ফাইনালেও তুলেছে। একজন অধিনায়ক হিসেবে ও কী করতে পারে, তা আমরা দেখেছি। তবে দুর্দান্ত শুরুর পর সম্ভবত এই বছর ওর মরসুমটা একটু কঠিন ছিল। ওর নিজের পারফরম্যান্সও বেশ ভালো। বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও সুযোগ পাওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলে। তবে স্বাভাবিক ভাবেই দলে সূর্য থাকায় ওর জন্য কোনও জায়গা ছিল না। আমার মতে শ্রেয়স অধিনায়ক হওয়ার অন্যতম সেরা প্রার্থী এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে এখন ওর যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তবে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে এক আলাদা চ্যালেঞ্জ।’ দেখা যাক শ্রেয়স দেশের দায়িত্ব নিয়ে কী করেন!
(Feed Source: zeenews.com)
