
হারিয়েছেন কাজ, সবটা মেনে নিতে না পেরে দিনের পর দিন মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। চেষ্টা করেছিলেন মুখ খোলার, কিন্তু পরিবার ও নিজের সম্মানের দিকে তাকিয়ে চুপ ছিলেন এতদিন। দীর্ঘদিন অত্যাচার সহ্য করার পর অবশেষে হেভিওয়েট নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিযোগকারিণী। কী কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে, সেই ভয়াবহ দিন গুলোর কথা সবটা বর্ণনা করেন নিজেই।
স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলে অভিযোগকারিণী জানান, ”আমাদের একটা গিল্ড আছে। যেটা মেকআপ গিল্ড। আমি তারই একজন সহকারী। এই মেকআপ গিল্ড-এর যে সেক্রেটারি, বাপি মালাকার আমায় দীর্ঘদিন কাজ দেন না। ২০১৭ থেকে ২০১৯ আমায় ব্যান করা হয়েছে। ২ বছর ধরে যা কাজ দেয়, সেটাও ১-২ দিন। সেটা অনেকবার চাওয়ার পর। উনি আমায় বলেছিলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে প্রিয় মানুষ হতে হয়। প্রিয় মানুষ বলতে, উনি, স্বরূপ বিশ্বাস ও সঙ্গে যারা আছে সবার। দীর্ঘদিন অত্যাচার চলে, আমি গিয়ে কাজ চাইতাম। পায়ে ধরেও কেঁদেছি উনার (বাপি মালাকার)। আপনি কাজ না দিলে আমি সংসারটা চালাতে পারছি না। আমি উনার বিরুদ্ধে চিঠি দিই স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে। সেই চিঠি তুলে নেওয়ার জন্য সান্তনু দে আমায় রাত ১০.৩০ মিনিটে ফোন করে কিছু কথা আছে জানায় এবং পরের দিন বাড়িতে আসবে বলে বলে। পরের দিন বাড়ি এসে বলে, যে চিঠিটা দিয়েছ সেটা তুলে নাও। যদি না তোলো, তাহলে স্বরূপ ও বাপি মিলে তোমায় খুন করে দেবে। এবং এমন ভাবে মারা হবে, যেটা দেখান হবে তুমি নিজে আত্মহত্যা করেছো। আমি তখন বললাম, আমি চিঠি তুলব না, কিন্তু এর শেষ দেখে ছাড়ব। যখন দেখল আর পেরে উঠছে না, তখন আমায় বলছে, তোমার তো বয়স হয়ে গেছে, তুমি কম্প্রোমাইস করো, মেয়ে সাপ্লাই দাও। স্বরূপ বিশ্বাস ও বাপি মালাকারের সঙ্গে কম্প্রোমাইস করে কাজটা নাও। ওদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করো না। পেরে উঠবে না।”
তিনি আরও বলেন, ” আমি ২০২৫-এর ২০ অগাস্ট একবার সুরুচি সংঘে গিয়েছিলাম কাজের ব্যাপারে বলতে। উনি বলেছিলেন কাজ পেতে গেলে টাকা দিতে হবে। প্রত্যেক সহকারীকে ৫০০ টাকা করে দিতে হত। আর বসদের ১০০০। ৫ এপ্রিল ৩ জন আমার বাড়িতে চড়াও হয়ে মাথায় বন্ধুক ঠেকিয়ে দিয়েছিল। এই রিপোর্ট আমি লিখতে পারিনি। আমায় গল্ফগ্রীণ থানায় আটকে দেওয়া হয়েছিল।”
(Feed Source: abplive.com)
