)
Vladimir Putin Praises on PM Modi: ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘সর্বকালের এবং সব পরিস্থিতির বন্ধু’ (All-weather ties) হিসেবে অভিহিত করে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, “কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে আমরা ভারতকে কী সরবরাহ করব আর কী করব না। আমাদের ডিক্টেট করার ক্ষমতা কারও নেই।”
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘নতুন ভারত’-এর ভূয়সী প্রশংসায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে দাঁড়িয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেইসঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তিনি সতর্ক করে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শক্তিশালী নেতৃত্বে ভারতের উপর যে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হলে বা চাপালে তা উলটে হুমকিদাতাদের উপরই ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরে আসবে। পুতিনের এই মন্তব্য কূটনৈতিক দিক থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্ব ও মর্যাদা বাড়িয়ে তুলল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের সার্বভৌমত্ব ও মোদীর নেতৃত্ব
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোরের সঙ্গে বলেন যে, ভারত সর্বদা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের নীতি নির্ধারণ করে এসেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পুতিনের ভাষায়, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার যে কোনও রকম হুমকি তাৎক্ষণিকভাবে বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে।” এপ্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত বহিরাগত কোনও চাপ বা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের পরোয়া না করে সর্বদা তার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে শত চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক সবসময় বজায় রেখেছে এবং তা আরও জোরদার করছে। পুতিনের মতে, ভারত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন দেশ। ভারত তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মুক্ত। বহিরাগত কোনও শক্তি ভারতের এই স্বাধীন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা
পুতিন জানান, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক অংশীদারিত্ব কেবল সাধারণ ‘ক্রেতা-বিক্রেতা’র সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পারস্পরিক গভীর বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দুই দেশ যৌথ গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে। এর অন্যতম সফল উদাহরণ হল ‘ব্রহ্মোস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কর্মসূচি। রুশ রাষ্ট্রপতি বলেন, “শুরু থেকেই ভারত ও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলাফল অত্যন্ত চমৎকার।”
এই প্রসঙ্গে পুতিন রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘সুখোই-৫৭’ (Su-57) এর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পূর্বে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতের কাছে সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের কো-প্রোডাকশনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও কারণে তখন সেই যৌথ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। রাশিয়া এরপর নিজস্ব প্রযুক্তিতে সু-৫৭-এর উন্নয়ন করেছে। বর্তমানে সু-৫৭ বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং বহুমুখী যুদ্ধবিমান। আর রাশিয়া এটি ভারতের কাছে বিক্রি করতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের উপর কাউন্টারিং আমেরিকার অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (CAATSA)-এর মতো নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকলেও, ভারত তা উপেক্ষা করে তার নিজস্ব প্রয়োজনে এই ধরনের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এস-৫০০ (S-500)-এর মতো বায়ু প্রতিরক্ষা সিস্টেম কেনার মতো সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলেও পুতিন নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
নিষেধাজ্ঞা ও মোদীর কূটনৈতিক জয়
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছিল। তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু আজ সময় বদলে গিয়েছে। আজ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর উপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে কীভাবে ভারত বৈশ্বিক কূটনীতির চাকা নিজের অনুকূলে ঘুরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘সর্বকালের এবং সব পরিস্থিতির বন্ধু’ (All-weather ties) হিসেবে অভিহিত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, ভারতের সঙ্গে মস্কোর প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা কোনও সাময়িক বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে না। পুতিন বলেন, “কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে আমরা ভারতকে কী সরবরাহ করব আর কী করব না। আমাদের ডিক্টেট করার ক্ষমতা কারও নেই। রাশিয়া সর্বদা ভারতের সঙ্গে করা সমস্ত চুক্তি এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
(Feed Source: zeenews.com)
