)
Swarup Biswas Sent to Police Custody: আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা! জনরোষ থেকে বাঁচাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই আলিপুর আদালতে পেশ করা হলো প্রভাবশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, “প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই, আরও অনেক টাকা লেনদেন হয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপি লিগ্যাল সেলের আইনজীবীদের তুমুল বিক্ষোভ ও আদালত কক্ষের হৈচৈ-এর মাঝেই আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাসকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত।
সন্দীপ প্রামাণিক: জনরোষ এড়াতে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই কড়া নিরাপত্তায় আদালতে পেশ করা হয় প্রভাবশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে। শুক্রবার প্রায় বেলা তিনটে নাগাদ আলিপুর আদালতে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি শুরু হতেই চরম উত্তেজনা ছড়ায় আদালত চত্বরে। বিজেপির লিগ্যাল সেলের আইনজীবীরা আদালতের বাইরে এবং ভেতরে স্বরূপ বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। সওয়াল-জবাবের টানটান পর্ব শেষে আদালত আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাসকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
শুনানি শুরু হতেই সরকারি আইনজীবী স্বরূপ বিশ্বাসের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে চাকরি বা অন্যান্য পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”
সরকারি আইনজীবী আরও জানান, ইতোমধ্যেই চারজন মূল অভিযোগকারী সরাসরি বয়ান দিয়েছেন যে তাঁরা স্বরূপ বিশ্বাসকে টাকা জুগিয়েছেন। কিন্তু দুর্নীতি এখানেই শেষ নয়। ঠিক কার কার কাছ থেকে, কত টাকা তোলা হয়েছে এবং এই বিপুল অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে গভীরে তদন্ত প্রয়োজন। অন্য এক দফায় বাকিদের কাছ থেকে আরও ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই পুরো চক্রের পর্দাফাঁস করতে এবং ‘ফুল টার্ম’ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী।
সরকারি আইনজীবী বলেন, “অভিযুক্ত একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই। কার কার কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে, সেই শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো জরুরি।”‘ভয় কেটেছে মানুষের’, সওয়াল অভিযোগকারীর আইনজীবীর
অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, এই গোটা দুর্নীতি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। একটি সুসংগঠিত দল বেঁধে এই তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালানো হচ্ছিল। এতদিন অভিযুক্তের রাজনৈতিক প্রতিপত্তির কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় কমে গেছে। তাই একের পর এক ভুক্তভোগী এখন সামনে এসে অভিযোগ জানাচ্ছেন।
পাল্টা জবাবে স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, একটি মূল অভিযোগের মধ্যে প্রায় সাতজনের নাম জড়ানো হয়েছে এবং টাকা তোলার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে স্বরূপ বিশ্বাসের কোনো সরাসরি ভূমিকা বা যোগসূত্র মেলেনি।
এমনকি অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, ঘটনার সময় বা ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত স্বরূপ বিশ্বাস স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন না। ডিফেন্স কাউন্সেল আদালতে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখার আইনি বিধানের কথা উল্লেখ করে একটি নিরপেক্ষ রিপোর্টের দাবি জানান।
ডিফেন্সের এই সওয়ালের মাঝেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত কক্ষ। অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবীদের একাংশ এবং উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা তুমুল হৈচৈ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচারককে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ক্ষণিকের জন্য এজলাসের ভেতরের পরিবেশ সম্পূর্ণ থমথমে হয়ে যায়। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর, বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৮ জুন পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাসকে পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
(Feed Source: zeenews.com)
