বেকারত্বের অজুহাত দেখিয়ে স্বামী তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের খোরপোশের আইনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। এক গার্হস্থ্য হিংসা মামলার শুনানিতে এমনই রায় দিয়েছে দিল্লির আদালত।
;”>খোরপোশ মামলায় বড় রায়
নয়াদিল্লি: শুধুমাত্র বেকারত্বের অজুহাত দেখিয়ে স্বামী তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের আইনি দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। এক গার্হস্থ্য হিংসা মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে এক ব্যক্তিকে তাঁর ছেলের জন্য প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লির একটি আদালত।
বিচারক শীতল চৌধুরী প্রধান একটি মহিলার করা আপিলের শুনানিতে এই নির্দেশ দেন। এর আগে ট্রায়াল কোর্ট ওই মহিলার আর্থিক সহায়তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত ২ জুনের নির্দেশে জানায়, “স্বামীর দায়িত্ব নিজের খরচ সামলে চলা। তিনি বেকার বা তাঁর অন্য দায়িত্ব রয়েছে— এই অজুহাত দেখিয়ে বৈধভাবে বিবাহিত স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন না।”
মহিলার অভিযোগ, ২০১৩ সালে বিয়ের পর থেকেই তাঁকে পণ-সংক্রান্ত নির্যাতন, শারীরিক হেনস্থা এবং মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, গর্ভাবস্থায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে তিনি একাই ছেলেকে লালন-পালন করছেন।
যদিও শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা স্বাধীন প্রমাণ না থাকায় আদালত ট্রায়াল কোর্টের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হয়েছে, তবে সন্তানের ভরণপোষণের ক্ষেত্রে বাবার দায়িত্ব পালনে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়েছে।
আদালত স্পষ্ট জানায়, “নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা-মা উভয়েরই।”এদিকে, মহিলা শিক্ষিত হওয়ায় তিনি নিজে উপার্জন করতে সক্ষম— এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “উপার্জন করার সক্ষমতা এবং বাস্তবে উপার্জন করা— এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।” আদালত আরও উল্লেখ করে, স্ত্রী ও সন্তানের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত আয় মহিলার রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ স্বামী পেশ করতে পারেননি।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, একাধিক সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও স্বামী তাঁর আয়ের হলফনামা আদালতে জমা দেননি। সব দিক বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নাবালক ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নির্দেশের দিন থেকে প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা করে ভরণপোষণ দিতে হবে বাবাকে।
(Feed Source: news18.com)