)
Mimi Chakraborty: বনগাঁকাণ্ডে এবার বড়সড় বিপাকে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী! অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর দাবি, আদালতের নির্দেশে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। তনয় শাস্ত্রীর হুঙ্কার, “অন্যায় করেছেন, শেষ দেখে ছাড়ব!” এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন অভিনেত্রী?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ায় তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বহুচর্চিত উত্তর ২৪ পরগনার ‘বনগাঁকাণ্ডে’ এবার এক নাটকীয় মোড় সামনে এল। মামলার মূল অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, গত ২ জুন বনগাঁ মহকুমা আদালতে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা অভিযোগপত্র গঠিত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াইয়ে মিমি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা দেওয়ার সম্ভাবনা এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই মামলাটির গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অভিযোগের আঙুল ওঠার পর থেকে বহুবার আদালতে শুনানির দিন ধার্য হলেও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ব্যক্তিগতভাবে একবারের জন্যও সশরীরে এজলাসে উপস্থিত হননি। গত ২ জুনের শুনানিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সেদিনও অভিনেত্রী নিজে আদালতে উপস্থিত না থেকে তাঁর আইনজীবীকে পাঠান। অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের তারকা ইমেজ বা প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে এবং বারবার সময় চেয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার একটা সুনির্দিষ্ট চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বিবাদী পক্ষের তরফ থেকে। আদালতের মূল্যবান সময় নষ্টের এই কৌশল রুখতেই তনয়ের আইনজীবী সেদিন আদালতের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানান এবং মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনের জোরালো আবেদন পেশ করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পরেই মামলাটি এক নয়া মোড় নেয়।
আদালতের এই পদক্ষেপের পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও দৃঢ় শোনাল অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “তিনি অন্যায় করেছেন, আর অন্যায়ের শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। আইন সবার জন্য সমান। সেলিব্রিটি বা প্রভাবশালী তকমা দেখিয়ে আইনের হাত থেকে বেশিদিন পার পাওয়া যায় না। এবার আদালতে মিমি চক্রবর্তীকে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে। উনি সম্পূর্ণ অকারণে, গায়ের জোরে আমাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। মানসিক ও সামাজিকভাবে আমাকে যে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, আমি আদালতের মাধ্যমে এর শেষ দেখেই ছাড়ব।”
তনয় শাস্ত্রীর দাবি, আদালত মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনের আবেদন গ্রহণ করার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে টলিউড অভিনেত্রীকে বনগাঁ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (Warrant) জারি করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে এই বিষয়ে বনগাঁ আদালতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত বিবৃতি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং হাই-প্রোফাইল মামলার চার্জশিট গঠন ও সমন জারির বিষয়ে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর আইনি দল কিংবা ঘনিষ্ঠ মহল এই বিষয়ে পুরোপুরি মৌনব্রত অবলম্বন করে রয়েছে। ফলে এই নতুন আইনি মোড়ের পর মিমির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে—তিনি কি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন নাকি নির্দিষ্ট দিনেই বনগাঁ আদালতে হাজিরা দেবেন—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
(Feed Source: zeenews.com)
