)
Philippines Earthquake: দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এতে অন্তত ৪ জন মারা গেছেন এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সমুদ্রতীরে সুনামির ভয় থাকায় সেখানকার মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের জায়গার কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
অয়ন ঘোষাল: রবিবার রাতে কেঁপে উঠেছিল ভুটান। তার অভিঘাতে কেঁপে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। কম্পন অনুভূত হয় কলকাতা শহরেও। ফিলিপিনসের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্ডানাও উপকূল সোমবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের জেরে ফিলিপিনস ও ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলিও।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমে কম্পনের মাত্রা ৭.৩ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৮.২ করা হয়। মার্কিন সুনামি ওয়ার্নিং সিস্টেম ভূমিকম্পের পরই সুনামির সম্ভাবনার সতর্কতা জারি করে। পাশাপাশি প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি ধ্বংসাত্মক হয়, কারণ ভূগর্ভস্থ শক্তি কম দূরত্ব অতিক্রম করে সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আঘাত করায় কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া এবং আশেপাশের দেশগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত উঁচু জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই মিন্দানাওয়ের দক্ষিণ উপকূলে প্রায় সাড় ৪ ফুট উঁচু সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে। সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ফিলিপিন্সের কিছু এলাকায় ৩ মিটার (প্রায় ১০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আসতে পারে। জাপান, তাইওয়ান এবং মালয়েশিয়াতেও ছোট আকারের সুনামির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি
ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঘরবাড়ির আসবাবপত্র ও টিভি-ফ্রিজ ভেঙে পড়েছে। আতঙ্কে মানুষজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় ছুটে আসেন। বেশ কিছু রাস্তা ও ব্রিজে ফাটল দেখা গেছে এবং একটি বড় ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপিন্সের রাষ্ট্রপতি ফের্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উপকূলের মানুষকে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘জিনিসপত্রের চেয়ে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। দয়া করে দেরি না করে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। সরকার মিন্দানাওয়ের মানুষের পাশে আছে।’
কেন এত ভূমিকম্প হয় এই অঞ্চলে?
ফিলিপিন্স অঞ্চলটি পৃথিবীর এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যাকে ‘রিং অফ ফায়ার’ বলা হয়। মাটির নিচে থাকা বিশাল পাথরের প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণে এই এলাকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
(Feed Source: zeenews.com)
