)
Zee Short Film Contest Grand Finale:মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে বসেছিল চাঁদের হাট। সফলভাবে সম্পন্ন হল প্রথম ‘Zee Short Film Contest’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। অনুরাগ কাশ্যপ, সৃজিত মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে লিজো জোসে পেলিসেরি— তরুণ পরিচালকদের পিঠ চাপড়াতে হাজির ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির বিগ বসরা। ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারের পাশাপাশি মিলল ‘জি স্টুডিওজ’-এর সাথে সিনেমা বানানোর সরাসরি টিকিট।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গ্ল্যামারের রাজধানী মুম্বই, এমন এক শহর যেখানে সারাভারত থেকে যুবক যুবতীরা আসেন চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে। কেউ স্বপ্ন দেখেন নিজেকে পর্দায় দেখার, কেউ আবার নেপথ্যে থেকেই পর্দায় তৈরি করতে চান মায়াজাল। কিন্তু সবসময় সেইসব প্রতিভা খুঁজে পায় না সঠিক মঞ্চ। এবার সেরকমই একটা মঞ্চ গড়ে দিল জি। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কন্টেন্ট এবং প্রযুক্তি সংস্থা ‘জি’ (Zee)-র উদ্যোগে আয়োজিত দেশব্যাপী বহুভাষিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ‘জি শর্ট ফিল্ম কনটেস্ট’ (Zee Short Film Contest)-এর গ্র্যান্ড ফিনালে সম্পন্ন হল মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা তরুণ ও প্রতিভাবান গল্পকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সম্মানিত করতে এদিন এক ছাদের তলায় হাজির হয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার তারকা পরিচালকেরা।
চাঁদের হাট মুম্বইয়ে, উপস্থিত ড.সুভাষ চন্দ্র ও পুনীত গোয়েঙ্কা
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান এমেরিটাস ড. সুভাষ চন্দ্র। তাঁর উপস্থিতি এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে নতুনভাবে গল্প বলার সাহস জোগায়। অন্যদিকে, সংস্থার সিইও পুনীত গোয়েঙ্কা জি-র ৩৩ বছরের গৌরবময় পথচলার কথা স্মরণ করে বলেন, “আজকের এই মনোনীত প্রার্থীরাই হলেন আগামী দিনের চলচ্চিত্র জগতের কাণ্ডারি, যাঁরা বিনোদন বিশ্বকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।”
এবারের প্রতিযোগিতার বিচারক মণ্ডলীর তালিকায় ছিল একঝাঁক মহীরুহ। হিন্দি সিনেমার অনুরাগ কাশ্যপ, মারাঠির রবি যাদব, বাংলার সৃজিত মুখোপাধ্যায়, তামিলের পি. সামুথিরাকানি, কন্নড়ের হেমন্ত রাও এবং মালয়ালম সিনেমার লিজো জোসে পেলিসেরি— রেড কার্পেটে তাঁদের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। আটটি ভাষার সেরা ছোট ছবি এবং রানার্স আপের নাম ঘোষণা করেন তাঁরা। এছাড়া সেরা অভিনেতা, লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার, এডিটর, সুরকার এবং কৌতুক অভিনেতাদেরও পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক রাজীব মাসন্দের সঞ্চালনায় বিচারকদের একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক। সেখানে ভারতের আঞ্চলিক সিনেমা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন পরিচালকেরা।
বিপুল আর্থিক পুরস্কার ও বড় পর্দায় ব্রেক পাওয়ার সুযোগ
নতুন প্রতিভাদের মূল স্রোতের সিনেমায় নিয়ে আসতে এক অভাবনীয় ঘোষণা করেছে ‘জি’ কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ভাষার ‘সেরা ছোট ছবি’-র বিজেতারা পেয়েছেন নগদ ৫,০০,০০০ (৫ লক্ষ) টাকা এবং রানার্স আপরা পেয়েছেন ২,৫০,০০০ (আড়াই লক্ষ) টাকা। এছাড়া অভিনয়, চিত্রনাট্যসহ অন্যান্য বিশেষ বিভাগের বিজয়ীদের হাতে ১,০০,০০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চমক ছিল অন্য জায়গায়। প্রতিটি ভাষার সেরা দুজন ফাইনালিস্ট সরাসরি ‘জি স্টুডিওজ’-এর কাছে তাদের ফিচার ফিল্ম বা বড় পর্দার সিনেমার স্ক্রিপ্ট পিচ করার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকে নির্বাচিত একটি গল্পকে সম্পূর্ণভাবে প্রযোজনা ও তৈরি করবে জি স্টুডিওজ। অর্থাৎ, শর্ট ফিল্মের গণ্ডি পেরিয়ে এক লাফে বলিউডের মূল স্রোতের বড় পর্দায় পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সরাসরি সুযোগ করে দিল এই প্ল্যাটফর্ম। এক জমকালো ও সফল সন্ধ্যার মাধ্যমে ভারতের আগামী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রূপোলী সফরের সূচনা করল জি।
(Feed Source: zeenews.com)
