)
TMC rebel MP’s meeting: দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন লোকসভায় তৃণমূলের ‘চিফ হুইপ’ (প্রধান সচেতক) কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
রাজীব চক্রবর্তী: তৃণমূলে মহাবিদ্রোহের মেঘ। জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোটের সলতে পাকানো নিয়ে ব্যস্ত তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব, ঠিক তখনই খোদ লোকসভার অন্দরে দলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন লোকসভায় তৃণমূলের ‘চিফ হুইপ’ (প্রধান সচেতক) কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুধু একাই নন, দলের প্রায় ২০ জন সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
এই তোলপাড় ফেলা ঘটনায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুধু ভাঙনই নয়, লোকসভায় দলের অস্তিত্ব নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন।
দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, ‘আমি সহ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এনডিএ-র অংশ হওয়ার বিষয়ে আমাদের ইচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জানাব।’
হঠাৎ করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের সাংসদদের একটি বড় অংশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই পদক্ষেপ। কাকলির বক্তব্য, ‘সহকর্মী সাংসদদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমান্তরাল রাজনীতি চলছে রাজধানীতে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই গৃহযুদ্ধের সলতে পাকানোর কাজ চালাচ্ছিলেন বিক্ষুব্ধরা।
সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের প্রধান সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করে কাকলির বক্তব্য বলেন, ‘আমাকে (পদ থেকে) সরিয়ে দেওয়াটা ছিল স্বৈরাচারী এবং একতরফা। দলের চেয়ারপার্সন এই পদে আমার পরিবর্তে অন্য কারও নাম ঘোষণা করে থাকতে পারেন, তবে তা রাতারাতি সাংবিধানিক এবং সংসদীয় অবস্থানকে বদলে দেয় না।’
তিনি আরও বলেন যে, লোকসভার খাতায়-কলমে এবং সংসদীয় নিয়মে বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত তিনিই তৃণমূলের ‘চিফ হুইপ’ পদে বহাল রয়েছেন। আর সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলেই তিনি দলের বাকি সহকর্মী সাংসদদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দলের বর্তমান নীতি ও রাজনৈতিক লাইনের পরিপন্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বার্তা, তাঁরা আর বিরোধী জোটে থেকে ‘রাজনীতির সমুদ্রে খাবি খেতে’ রাজি নন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘আমরা জনগণের রায় মেনে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করি যে আমাদের ভবিষ্যৎ political course বা রাজনৈতিক পথ এনডিএ-র সাথে যুক্ত হওয়া উচিত। সেই অনুযায়ী, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানিয়ে দেব। আমরা এনডিএ-র অংশ হতে চাই।’
৪ বারের সাংসদের এই বিস্ফোরক বিবৃতির পর তৃণমূলের অন্দরে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লি সফরে এসে বিরোধী জোটের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই দলের প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদের এই ‘মহাবিদ্রোহ’ জোড়াফুল শিবিরের জাতীয় স্তরের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিল। ২০ জন সাংসদ যদি সত্যিই দলত্যাগ করেন বা স্পিকারের কাছে দলবদলের আর্জি জানান, তবে তা সংসদের অন্দরে তৃণমূলকে কার্যত কোণঠাসা করে দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে রাজ্য স্তরে ভোট পরবর্তী হিংসা ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন, আর অন্যদিকে দিল্লির বুকে ২০ জন সাংসদ নিয়ে কাকলির এই চরম পদক্ষেপ– দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পড়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত খাবি খাচ্ছে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে তৃণমূল নেতৃত্ব তৎপর হলেও, কাকলির এই অনড় অবস্থান বাংলার রাজনীতিতে এক বিশাল উলটপুরাণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
