)
Donald Trump H-1B Visa Fee: ২০২৫-এর সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার নতুন বর্ধিত ফি চালুর কথা ঘোষণা করে। ২০০০ থেকে ৫০০০ ডলারের ভিসা ফি বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলার করে দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা এইচ-১বি ভিসার এই নতুন ফি বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন জেলা আদালত।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য বড়ই স্বস্তি ও সুখবর। মার্কিন ফেডারেল আদালতে জোর ধাক্কা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা H-1B ভিসায় ১ লক্ষ ডলার ফি বাতিল করল মার্কিন ফেডারেল আদালত। যার জেরে মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয়দের আর কোনও অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। বস্টনের জেলা আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, এই বাড়তি ফি বেআইনি। এই ফি আসলে একটি ‘কর’। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে আরোপ করতে পারেন না। বস্টন জেলা আদালতের এই রায়ে ভারতীয়-সহ সব বিদেশিদের স্বস্তি মিললেও, অস্বস্তি বাড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কারণ এর আগে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এভাবে শুল্ক আরোপ বেআইনি ঘোষণা করেছিল।
কেন এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধি ট্রাম্পের?
গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন ফি এইচ-১বি ভিসা চালুর কথা ঘোষণা করে। এর আগে এইচ-১বি ভিসার জন্য সবমিলিয়ে ২ থেকে ৫০০০ ডলার মধ্যে খরচ হত। সেই ফি একধাক্কায় বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলার করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফি বাড়ানোর পিছনে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় আউটসোর্সিং কমানো। বিদেশি কর্মী নিয়োগ কমিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো। কারণ, মার্কিন যুব সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলো কম পারিশ্রমিকে বিদেশিদের নিয়োগ করছে। কম পারিশ্রমিকে বিদেশিদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। ফলে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমছে।
নতুন এইচ-১বি ভিসা ফি নিয়ে আদালতের বক্তব্য
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া সহ ২০টি ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্য আদালতে মামলা করে। যাদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, এই বিশাল অঙ্কের ফি আরোপের ক্ষমতা একা প্রেসিডেন্টের নেই। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এভাবে বর্ধিত ফি কার্যকর করা যায় না। বস্টন জেলা আদালতের বিচারক সোরোকিন বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সেই যুক্তিকে সমর্থন করেন। বিচারক লিও সোরোকিন রায় ঘোষণা করে জানান, এই বিপুল অঙ্কের ফি আরোপের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক বা আইনগত ক্ষমতা নেই। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারে। তবে, সেখানেও ট্রাম্প প্রশাসন পিছু হঠতে বাধ্য হবে বলেই মত আইনজ্ঞদের। কারণ, মার্কিন প্রশাসনেরই নথি অনুযায়ী, আচমকা ফি বৃদ্ধির ফলে H-1B ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি ক্ষেত্রে এই বর্ধিত ফি জমা পড়েছে।
ভারতীয়দের ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের গুরুত্ব
প্রসঙ্গত, ভারতীয়দের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব ভীষণই বেশি। কারণ, ভারতীয় দক্ষ পেশাদাররাই এই ভিসার সবচেয়ে বড় ও অন্যতম সুবিধাভোগী। H-1B ভিসার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মী মার্কিন মুলুকে কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। সেইসঙ্গে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভিসার ব্যবস্থাও রয়েছে। আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল এবং ফিনান্স- প্রভৃতি বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীদের আমেরিকায় কাজ করার জন্য এইচ-১বি ভিসা অন্যতম প্রধান উপায়। এখন আদালতের রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সবাই। কারণ আদালতের রায়ের ফলে আপাতত ১ লক্ষ ডলার ফি আর কার্যকর থাকবে না।
(Feed Source: zeenews.com)
