)
Bharathiraja passes away: ভারতীরাজার মৃত্যুর খবরে পুরো সিনেমা জগৎ স্তব্ধ। ‘তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিল’ গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের এই প্রাক্তন সভাপতি ও প্রবীণ সদস্যের চলে যাওয়া এক মস্ত বড় ক্ষতি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিনোদন দুনিয়ায় নক্ষত্রপতন। প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজা। বুধবার ভোরে চেন্নাইয়ের বাড়িতেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
ভারতীরাজার প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ‘তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিল’। তাদের এক শোকবার্তায় জানানো হয়, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের সমিতির প্রাক্তন সভাপতি এবং অন্যতম প্রবীণ সদস্য, কিংবদন্তি পরিচালক জনাব ভারতীরাজা আজ ভোরে মারা গিয়েছেন।’
পরিচালক অরুণ মাথেস্বরন তাঁর এক আবেগঘন বার্তায় ভারতীরাজাকে স্মরণ করে লেখেন, ‘আমরা কেবল একজন পরিচালককেই হারাইনি, এমন একজন মানুষকে হারিয়েছি যিনি সিনেমাকে ভালোবেসে বেঁচেছিলেন। তিনি তামিল সিনেমাকে বারবার নতুন রূপ দিয়েছেন। আমার প্রথম সিনেমাতে তাঁকে পরিচালনা করার সৌভাগ্য আমি আজীবন বয়ে বেড়াব। আমি একজন বন্ধু, একজন মেন্টর এবং একজন পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম।’
জনপ্রিয় অভিনেত্রী, প্রযোজক ও রাজনীতিবিদ খুশবু সুন্দর এই কিংবদন্তির বিদায়ে গভীরভাবে শোকাহত। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি ভারতীরাজার প্রয়াণকে তামিল সিনেমার আকাশে এক ‘বিষণ্ণ মেঘ’ (Gloomy Cloud) বলে অভিহিত করেছেন। খুশবু লেখেন, “আমাদের প্রিয় পরিচালক আর নেই। তাঁর সিনেমাগুলো সিনেমা শেখার আসল স্কুল হয়ে থাকবে। তিনি আমাদের মাঝে এক বিশাল ইতিহাস রেখে গেলেন। তিনি আমাকে প্রায়ই বলতেন, ‘তোমাকে দুটো বিনুনি বাঁধিয়ে একটা সিনেমা বানাব’। সেই স্বপ্নটা আর পূরণ হল না। আপনাকে খুব মিস করব স্যার।”
ছেলের মৃত্যুর ভেঙে পড়েন পরিচালক
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাস ধরেই ভারতীরাজার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পরিচালকের ছেলে মনোজ ভারতীরাজার মাত্র ৪৮ বছর বয়সে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্তে মৃত্যু হয়। ছেলের এই অকাল মৃত্যুতে বাবা ভারতীরাজা একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। শেষকৃত্যের সময় তাঁর কান্নার ছবি সবাইকে কাঁদিয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তিনি চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
কেমন ছিল তাঁর সিনেমার কেরিয়ার?
১৯৭৭ সালে ‘১৬ ভায়াথিনিলে’ সিনেমা দিয়ে পরিচালক হিসেবে ভারতীরাজার পথচলা শুরু হয়। তখন বেশিরভাগ সিনেমা স্টুডিওর ভেতরে তৈরি হত। কিন্তু তিনি ক্যামেরা নিয়ে সোজা চলে যান গ্রামে। সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। এই একটি সিনেমাই তামিল ফিল্মের ভাগ্য বদলে দেয়। তিনি প্রায় ৪০টিরও বেশি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। তাঁর বানানো বিখ্যাত কিছু সিনেমা হল: কিলহাকে পোগুম রেল, সিগাপ্পু রোজাক্কাল, আলাইগাল ওইভাথিল্লাই, কাদাল ওভিয়াম, মুথাল মারিয়াথাই।
পরিচালনার পাশাপাশি তিনি দারুণ অভিনয়ও করতেন। আয়ুথা এজুথু, পান্ডিয়ানাডু, ইসবরণ, তিরুচিথ্রামবালাম এবং জনপ্রিয় সিনেমা মহারাজা-তে তিনি অভিনয় করেছেন। মোহনলালের তুদারুম সিনেমায় তাঁকে শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছে। আর তাঁর অভিনীত পুলাভার সিনেমাটি এখনও মুক্তি পায়নি, এটিই হবে অভিনেতা হিসেবে তাঁর শেষ কাজ।
সিনেমায় এই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের দেওয়া সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ উপাধি এবং ৬টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া ভারতীয় সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
(Feed Source: zeenews.com)
