)
পুলিস সূত্রে খবর, স্বরূপের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি, শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির মতো মারাত্মক অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে কোনো ডকিউমেন্ট বা ডিজিটাল প্রমাণ ফেডারেশনের অফিসে লুকিয়ে রাখা আছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এই আচমকা হানা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হল। এর মাঝেই সোমবার, মঙ্গলবার দু’দিন স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাট, সুরুচি সংঘের ক্লাবে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় পুলিস। ছাড় পেলেন না বুধবারও। তদন্তের স্বার্থে নিউ আলিপুর থানার পুলিস এদিন ফেডারেশনের অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায়।
এদিকে, স্বরূপ বিশ্বাসকে পুলিস ভ্যান থেকে নামাতে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্টুডিয়ো পাড়ার কলাকুশলীরা। দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্বরূপকে লক্ষ্য করে চিৎকার ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ফেডারেশনের কর্মীরা। তবে সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি ধৃত স্বরূপ।
কী কারণে গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস?
রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা মেক-আপ আর্টিস্টের দায়ের করা শ্লীলতাহানি, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ আলিপুর থানার পুলিস গ্রেফতার করে স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর বিরুদ্ধে স্টুডিয়ো পাড়ায় বছরের পর বছর ধরে ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগও উঠেছে। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত তিনি পুলিসি হেফাজতেই থাকবেন।
‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একছত্র আধিপত্যের অবসান?
টলিপাড়ার কলাকুশলী ও শিল্পীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, দাদা অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে টলিউডের ফেডারেশনের ওপর একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না অনেকেই। কিন্তু তিনি গ্রেফতার হতেই মেক-আপ আর্টিস্ট থেকে শুরু করে সাধারণ টেকনিশিয়ান ও প্রতিবেশীরা এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। কাদের কাদের থেকে স্বরূপ কোটি কোটি টাকা তোলা আদায় করেছেন, এখন তারই উৎস সন্ধান করছে পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
