‘হরমুজ প্রণালীতে গুলি করে নামানো হয়েছে মার্কিন হেলিকপ্টার’, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু আমেরিকার

‘হরমুজ প্রণালীতে গুলি করে নামানো হয়েছে মার্কিন হেলিকপ্টার’, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু আমেরিকার

 

নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা। হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার অ্যাপাচে হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে ইরান। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগের পর এবার সামনে আসছে, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। এক মার্কিন আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, তাঁদের হেলিকপ্টারকে ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (একমুখী হামলার ড্রোন) দিয়ে নামিয়েছে ইরান। যদিও হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটের কোনও ক্ষতি হয়নি, এমনকী তাঁরা আঘাতও পাননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরানকে এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মার্কিন অভিযানের বিষয়টি সামনে আসতেই, Axios-কে আমেরিকার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে থাকা ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার সিস্টেমকে টার্গেট করছে তাঁদের বাহিনী। হেলিকপ্টার গুলি করে নামানোর জবাবে এটা আমেরিকার “আত্মরক্ষার্থে” পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, CENTCOM বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হেনেছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার সকালের দিকে দক্ষিণ ইরানের বেশকিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ইরানের ফার্স নিউজ এসেন্সি জানিয়েছে যে, হরমোজগান প্রদেশের পূর্ব প্রান্তে বিস্ফোরণ শোনা গেছে। ইরানের সরকার-পোষিত সংবাদমাধ্যমের দাবি, কেশম দ্বীপে আক্রমণ চালানো হয়েছে। অর্থাৎ, রিপোর্টগুলিতে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান চলেছে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি একাধিক স্থানে। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের তেল পরিবহনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে থাকে।

এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম হামলা চালায় ইরানে। হত্যা করা হয় ইরানের সেই সময়কার সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত। তবে সম্প্রতি সুর নরম করে, আয়াতোল্লার ছেলে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ শাসক মোজতবার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটাতে, হরমুজ প্রণালীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছে প্রকাশ করেন ট্রাম্প। কিন্তু মোজতবার সঙ্গে দেখা করার যে প্রস্তাব দেন তিনি, তা একেবারে খারিজ করে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মোজতবা এবং ট্রাম্পের মধ্যে সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে তিনি ‘অবাস্তব ভাবনা’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন।

(Feed Source: abplive.com)