)
Air India witness Aeroplane boy Aryan Asari haunts: ১৮ বছর বয়সী আরিয়ান আসারি-ই ২০২৫-এর অভিশপ্ত ১২ জুন টেক অফ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়া AI-১৭১ বিমানের প্রথম ভিডিয়ো করেছিল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘আমি কোনও প্লেনের ভিডিয়ো করলেই তা ভেঙে পড়তে পারে!’ একবছর পরেও তাড়া করে ফিরছে আতঙ্ক। ভয়াবহ আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পার। কিন্তু এখনও স্মৃতিতে দগদগে প্লেন ভেঙে পড়ার সেই ভয়াবহ দৃশ্য। এখনও আতঙ্কে ‘এরোপ্লেন বয়’ আরিয়ান আসারি। বলছে, “যদি আমি কোনও প্লেনের ভিডিয়ো করি, সেটা আবার ভেঙে পড়তে পারে!” এতটাই আতঙ্কিত সে এখনও।
গুজরাটের আরাভল্লী জেলার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী আরিয়ান আসারি-ই ২০২৫-এর অভিশপ্ত ১২ জুন টেক অফ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়া AI-১৭১ বিমানের প্রথম ভিডিয়ো করেছিল। ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল ড্রিমলাইনার। আর সেই বিমানের একমাত্র ভিডিয়ো ফুটেজ ছিল আসারির কাছে। যে কারণে দুর্ঘটনার পর আরিয়ান আসারি ‘এরোপ্লেন বয়’ নামে পরিচিতি পায়। কারণ তার কাছেই ছিল দুর্ঘটনার একমাত্র ভিডিয়ো রেকর্ডিং। দুর্ঘটনার এক বছর পরও সে সেই স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
প্লেনে করে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন থাকলেও সে এখনও বিমানে চড়তে প্রস্তুত নয়। এমনকি বিমান ওড়ার ভিডিয়ো করতেও আর সাহস পায় না। কারণ তার মনে হয়, যদি আবার কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আসলে সেদিনও সে এমনিই ভিডিয়ো করছিল বিমান ওড়ার, সেই ভিডিয়োতেই ধরা পড়ে AI-১৭১ -এর দুর্ঘটনার একমাত্র মুহূর্ত। আসারির কথায়,“ওই ঘটনার পর আমি মোবাইলে আর প্লেন ওড়ার ভিডিয়ো রেকর্ড করি না। এখন আমার ভয় হয়, যদি আমি কোনও বিমানের ভিডিয়ো করি, সেটাও হয়তো ভেঙে পড়বে!”
আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশ। তিনিও এখনও ট্রমায় ভুগছেন। ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তাঁর জীবন সংগ্রাম দুর্ঘটনার পরেও চলছে। রমেশের কথায়, “মানুষ দেখে যে আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু তাঁরা দেখতে পায় না যে বন্ধ দরজার আড়ালে আমি এখনও কত কঠিন লড়াই করছি। এখনও আমার ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ এবং সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি বেঁচে আছি, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু বেঁচে যাওয়ার পর থেকে আমাকে যা সহ্য করতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
দুর্ঘটনার এক বছর পার হলেও সেই ভয়াবহ স্মৃতি এবং কষ্ট আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ৩৯ বছর বয়সী রমেশ জানান, বেঁচে ফিরলেও তাঁর লড়াই শেষ হয়নি। এখনও তিনি অনিদ্রা, তীব্র মানসিক উদ্বেগ এবং সেই ভয়ানক স্মৃতির ট্রমার সাথে লড়াই করছেন। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে আর্থিক কষ্ট, টানাপোড়েন। এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সাহায্য হিসেবে যে ২৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন, তা দিয়ে আর সংসার চলছে না। এদিকে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে এখন কোনও কাজকর্ম বা চাকরি করতে পারছেন না তিনি। ফলে তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছোট সন্তানের ভরণপোষণ চালানো তাঁর পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় আর্থিক সংকটের মুখোমুখি তাঁর পরিবার।
(Feed Source: zeenews.com)
