)
Current Strength of NDA, BJP and Opposition: লোকসভার ৯ জন এমপির মধ্যে ৫ জনই ‘মাতোশ্রী’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে চলায় এই জল্পনা তীব্র হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে ৬ জন এমপি একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিলে, লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি আরও বাড়বে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জাতীয় রাজনীতিতে আসন সংখ্যার ম্যাজিক ফিগার নিয়ে আবারও পারদ চড়তে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বড়সড় দলবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লোকসভার নম্বর গেমের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে মহারাষ্ট্র। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT) শিবিরে ফাটলের জল্পনা এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় খবর।
গত লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বিজেপিকে শরিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি একের পর এক আঞ্চলিক দলে ভাঙন এবং এনডিএ শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সংসদের দুই কক্ষেই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের বড় অংশ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে উদ্ভব শিবিরের ৯ জন লোকসভা এমপির মধ্যে ৫ জনই ‘মাতোশ্রী’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে চলায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অন্তত ৬ জন এমপির দলবদল প্রয়োজন, যা ঘটলে তারা একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।
জাতীয় স্তরে প্রধান দল এবং জোটের আসন বিন্যাস:
লোকসভা (মোট আসন: ৫৪৩, বর্তমান সক্রিয় সদস্য: ৫৪০, শূন্য: ৩)
এনডিএ জোট, তৃণমূল এবং অন্যান্য দলত্যাগের ঘটনার পর এনডিএ জোটের শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩১৪টি আসনে পৌঁছেছে। বিজেপি এককভাবে পেয়েছ ২৪০টি আসন। বিরোধী জোট অর্থাৎ ইন্ডিয়া ব্লক তৃণমূল ও অন্যান্য ফাটলের পর বিরোধী শিবিরের শক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে কংগ্রেস (৯৯), সমাজবাদী পার্টি (৩৭)-সহ বিরোধী জোটের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
রাজ্যসভা (মোট আসন: ২৪৫, বর্তমান সক্রিয় সদস্য: ২৪০, শূন্য: ৫)
এনডিএ জোট, ১৪৯টি আসন (দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের পর এটি ১৫৫ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে)। বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ১১৬টি আসন। বিরোধী জোটের ৬২টি আসন।
শিবসেনা ও তৃণমূলের ঘটনা যেভাবে সংখ্যাকে আলোচনায় এনেছে
সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সংসদ সদস্য NCPI-তে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দেওয়ায় শাসক শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। ঠিক এর পরপরই শিবসেনা শিবিরে ফাটলের জল্পনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সংবিধান সংশোধনের ম্যাজিক নম্বর
মোদী সরকার মূলত Delimitation Bill, 2026 এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’বিল পাসের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৬০টি আসন) পাওয়ার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের পর উদ্ভব শিবিরের ভাঙন বিজেপিকে সেই লক্ষ্যের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
মিত্র দলগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানো
যদি উদ্ভব ঠাকরের ৯ জন লোকসভা এমপির মধ্যে ৬ জন একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দেন, তবে লোকসভায় এনডিএ আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে চন্দ্রবাবু নাইডুর TDP বা নীতীশ কুমারের JD(U)-এর মতো বড় আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর বিজেপির দৈনন্দিন রাজনৈতিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।
লোকসভায় শিবসেনা-র ৯ জন এমপি
মহারাষ্ট্রে উদ্ভব ঠাকরের শিবিরের যে ৯ জন লোকসভা এমপি রয়েছেন, তারা হলেন-অরবিন্দ সাওয়ান্ত (মুম্বই দক্ষিণ), সঞ্জয় দেশমুখ (যাবতীয়াল-ওয়াশিম) — বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। নাগেশ বাপুরাও পাতিল আশ্তিকড় (হিঙ্গোলি) — বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। সঞ্জয় হরিভাও যাদব (পারভানি) — বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। রাজাভাবু ওয়াজে (নাশিক), সঞ্জয় দিনা পাতিল (মুম্বই উত্তর পূর্ব, রাজারাম ওয়াকচৌড়ে (শিরডি), অনিল দেশাই (মুম্বই দক্ষিণ মধ্য), ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বালকর (ওসমানাবাদ) — বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন
একনাথ শিন্ডের ২০২৯ সালের নির্বাচনী প্রস্তুতি
মহারাষ্ট্রে বিধানসভা এবং পরবর্তী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এখনও প্রায় ৩ বছর বাকি থাকলেও,মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এখন থেকেই সর্বভারতীয় স্তরে দল গোছাতে শুরু করেছেন। দিল্লিতে ২০টি রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কার্যকারিণীর বৈঠক করার মূল কারণ হল,নিজেকেই আসল ‘শিবসেনা’ হিসেবে প্রমাণ করার পর, শিন্ডে কেবল মহারাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্য ছাড়িয়ে হিন্দি বলয় ও অন্যান্য রাজ্যেও দলের সংগঠন বিস্তার করতে চান। উদ্ধবের দল ভেঙে যদি এমপিরা তার শিবিরে আসেন, তবে সেই বাড়তি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০২৯ সালে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় নিজেদের পাল্লা ভারী রাখাই শিন্ডের আসল কৌশল।
(Feed Source: zeenews.com)
